মেইন ম্যেনু

বিরাট এত ভাল ব্যাটসম্যান যে গোলমাল বাধার সম্ভাবনা নেই

বিরাট কোহলিকে নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ আছে?
শাস্ত্রী (ভ্রু কুঁচকে): চিন্তাটা কীসের জন্য?

এই যে কয়েকটা ইনিংসে রান পেলেন না বলে কথা হচ্ছে…
শাস্ত্রী: কয়েকটা ইনিংসও নয়। দু’তিনটে হবে (কোহলির ৪৫ রানের ইনিংস তখনও ঘটেনি)। সকলের কেরিয়ারে ঘটে। আমি নিশ্চিত, বিরাট ব্যাপারটা ঠিকঠাক বিশ্লেষণ করবে। ও নিশ্চয়ই বুঝেছে যে, ভারতীয় পরিবেশে শট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা দরকার। বিরাট এত ভাল ব্যাটসম্যান যে, গোলমাল বাধার কোনও চান্স নেই। খুব শীঘ্রই বড় স্কোর করে দেবে। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে চিন্তার কিছু আছে। তবে আমার কাছে এই সিরিজের প্রাপ্তি হচ্ছে চেতেশ্বর পূজারা।

কেন? পূজারা কেন?
শাস্ত্রী: যেভাবে ও ফিরে এসেছে, ভারতীয় দলের জন্য দারুণ খবর। প্রথন ইনিংসে যে ইনিংসটা খেলেছে, জাস্ট ব্রিলিয়ান্ট। তিন নম্বরে এমন একজনকে দরকার, যে ক্রিজে পড়ে থেকে লড়াইটা করবে। ইডেনে ঠিক সেটাই করল পূজারা। ওর ফর্মে ফেরাটা ভারতীয় দলের জন্য খুব ইতিবাচক ব্যাপার হতে যাচ্ছে। এখন দেশের মাটিতে অনেকগুলো টেস্ট রয়েছে। পূজারা স্পিন ভাল খেলে। আমার মনে হয়, আগামী এক বছরে যে দেশের মাঠে অনেকগুলো টেস্ট খেলছে ভারত, তাতে তিন নম্বরে পূজারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

পূজারার স্ট্রাইক রেট নিয়ে খুব বিতর্ক হল। টেস্টে ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে আপনার মতামত কী?
শাস্ত্রী: স্ট্রাইক রেট নিয়ে বড্ড বাড়াবাড়ি হচ্ছে। কোনও সেট জিনিস থাকবে কেন যে, অত বলে অমুক রান করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ঠিক হবে। পিচ যদি বোলারদের সাহায্য করে, ব্যাটসম্যান ক্রিজে গিয়েই মারতে শুরু করে দেবে নাকি? কাউকে তো ক্রিজে গিয়ে দাঁড়াতেও হবে। আমার মনে হয় এই সিরিজে এখনও পর্যন্ত পূজারার ব্যাটিং একদম ঠিক আছে। এটা আত্মবিশ্বাসী পূজারা। আত্মবিশ্বাসটা ফিরে এসেছে বলেই রানও আসছে। আর রানটা ভাল গতিতেও আসছে।

শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে আপনি অনেক সময় ব্যয় করেছেন। খুব সমর্থন করেছেন। শিখর এখনও রান পাচ্ছেন না। কী বলবেন আপনি?
শাস্ত্রী: বলব, নিজের প্রতি বিশ্বাসটা রেখে এগিয়ে যা। আমি জানি ইডেনের প্রথম ইনিংসে যে শটটা খেলে আউট হয়েছে, তাতে সবচেয়ে হতাশ হবে শিখরই। হাফ-হার্টেড খেলল। বলের কাছে গেলে, ওটা ছেড়ে দিতে পারত। ক্রিকেটে ব্যাপারটা হচ্ছে, ভুল হলে নেটে ফিরে গিয়ে তোমাকে সেগুলো শুধরে নিতে হবে। আর নিজের প্রতি বিশ্বাস না হারানো যে, অতীতে আমি পেরেছি। এখনও পারব। ব্যর্থতা থেকে সাফল্যে ফেরার ফর্মুলা এটাই।

কে এল রাহুলের ব্যাটিং দেখে কী বলবেন?
শাস্ত্রী: ফ্যান্টাস্টিক। গত কয়েক মাসে ভারতীয় দলে সবচেয়ে উন্নতি করা ক্রিকেটার। রাহুলের সফল হওয়াটা কিন্তু দলের উপকার করবে। ওপেনিং স্লটে এখন জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এতে সকলেরই পারফরম্যান্স ভাল হবে। ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।

পঁয়ত্রিশ ছুঁতে যাওয়া গৌতম গম্ভীরের দলে ফিরে আসা দেখে আপনি কি অবাক হয়েছেন?
শাস্ত্রী: যে কেউ রান করলে তার জন্য সুযোগ থাকা উচিত। তবে আমার মনে হয় এক্ষেত্রে গম্ভীরের প্লাস পয়েন্ট হয়েছে, ও স্পিন খুব ভাল খেলে। নির্বাচকেরা নিশ্চয়ই ভেবেছে, যতদিন না রাহুল ফিট হচ্ছে এমন একজনকে দরকার যার অভিজ্ঞতা আছে এবং স্পিনটাও ভাল খেলতে পারে।

আর রোহিত শর্মা? এত প্রতিভার কথা বলা হয় কিন্তু তার প্রতিফলন স্কোরবোর্ডে নেই!
শাস্ত্রী: রোহিত কানপুরে কিন্তু ভাল ব্যাট করেছে। এখানে প্রথম ইনিংসে বলটা হঠাৎ বাউন্স করে গেল। বলটাও ভাল ছিল। ইনিংসের শুরুর দিকে এরকম ডেলিভারির সামনে পড়লে উইকেট যেতে পারে। কিন্তু শেষ টেস্টে রোহিত খুবই ভাল ব্যাট করেছে। তবে এমন পরিস্থিতিও আসবে যেখানে দলকে হয়তো পাঁচ বোলারে খেলতে হবে। তখন একজন ব্যাটসম্যানকে বসাতে হবে। রোহিত যদি চায় কোপে পড়া ব্যাটসম্যানটা ও হবে না, তাহলে ওকে বড় রান করে যেতে হবে। যেমন ইডেনের দ্বিতীয় ইনিংসে করল। কানপুরে প্রথম ইনিংসে ফের হাল্কাচালে আউট হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে সত্যিই ভাল খেলেছে।

ইডেনের পিচটা কেমন হয়েছে বলে আপনার মত?
শাস্ত্রী: পিচে বল পড়ে কিন্তু যাচ্ছে। গতি আছে। বাউন্সটা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এই ইডেন উইকেট দারুণ একটা উইকেট হতে যাচ্ছে। এটাই এই নতুন পিচে প্রথম ম্যাচ হচ্ছে। আগামী দু’তিন মাসে থিতু হয়ে গেলে কিন্তু এটা খুব ভাল ক্রিকেট পিচ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই পিচে গতি আছে, এখানে স্পিনারদের জন্য টার্নও থাকবে।

ভারতীয় দলের ডিরেক্টরের পদ খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে আপনি দারুণ উপভোগ করতেন। সেখান থেকে আবার কমেন্ট্রি বক্সে। ভাল লাগছে কি?
শাস্ত্রী: অফকোর্স। আই লাভ কমেন্ট্রি। কুড়ি বছরের ওপর এই কাজটা করছি বলে কমেন্ট্রি আমার কাছে খুব আবেগের জায়গা। আরও ভাল লাগছে কমেন্ট্রি বক্স থেকেই দেখে যে, ছেলেরা দারুণ খেলছে।

মাঝেমধ্যেও কি ভারতীয় ড্রেসিংরুম মিস করেন না?
শাস্ত্রী: না, না। ভারতীয় ড্রেসিংরুমের ওই অধ্যায়টা অতীত হয়ে গিয়েছে। জীবন এগিয়ে গিয়েছে। আমি কমেন্ট্রি উপভোগ করছি। তাছাড়া আমি বরাবর বিশ্বাস করে এসেছি যে, খেলার পর ক্রিকেট নিয়ে সেরা কাজটা হচ্ছে কমেন্ট্রি করা। আর এমন একটা টিমের ম্যাচ কভার করছি, যারা বিশ্বসেরা হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। তাই আরওই উপভোগ্য মনে হচ্ছে।

এর মধ্যেই যদি মনে পড়ে যায় আপনি টার্নার চাইতেন বলে বিতর্ক হতো, সমালোচকদের কী বলবেন?
শাস্ত্রী: বলব, তোরা কোথায় ছিলি রে, যখন শ্রীলঙ্কা ওদের নিজেদেরে দেশে টার্নার বানিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ হোয়াইটওয়াশ করছিল? ঘুমোচ্ছিলি? তখন তো বললি না, ঘূর্ণিতে খেলা হল!