মেইন ম্যেনু

বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্যের খোঁজ পেলেন গবেষকরা

পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের সৌন্দর্য এতোদিন গোপনেই ছিল। নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত সেই আশ্চর্যকে এবার সামনে আনলেন গবেষকরা। দেশটির লেক রোটোমোহনার সিলিকা উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে এককালে ভিড় জমাতেন হাজারও পর্যটক। কিন্তু ১৮৮৬ সালে মাউন্ট টারাওয়ারা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সাজানো উপত্যকা ছারখার হয়ে যায়। তলিয়ে যায় হ্রদের নিচে।

যদিও সেই ধ্বংসলীলা পুরোপুরি নিঃশেষ করে দিতে পারেনি গোলাপী-সাদা সিঁড়ির মতো সুন্দর উপত্যকাটিকে। সম্প্রতি দুই গবেষক দাবি করেছেন, শেষ হয়ে যাওয়া অস্তিত্বের পুনরায় সন্ধান পেয়েছেন তারা। এই গবেষকরা জার্মান-অস্ট্রিয়ার ভূতাত্ত্বিক ফার্ডিনান্ড ভন হকস্টিটারের গবেষণার উপর ভিত্তি করে দাবিটি করেন। যিনি কিনা ১৮৫৯ সালে এই এলাকার সমীক্ষা করেছিলেন। হকস্টিটারকে নিউজিল্যান্ডের ভূবিদ্যার জনক বলা হয়।

এই সাদা-গোলাপীর সুন্দর দৃশ্য লেক রোতোমাহানাতে ধারে দেখা যায়। যেখানে গরম পানির দুই প্রস্রবণ থেকে সিলিকা কণা জড়ো হয়। ১৮৩০ সালে এটাকে টি অটুকাপুরাঙ্গি এবং টি টারাটা বলা হতো। এখানে বহু পর্যটক আসেন এই সুন্দর দৃশ্য দেখতে।

এরপর ১৮৮৬ সালের ১০ জুন মাউন্ট টারাওয়ারার অগ্নুৎপাতে ৪০ কিলোমিটার এলাকা ছাই হয়ে গিয়েছিল এবং নিহত হয়েছিল ১২০ জন। মনে করা হয়, এরপর সিলিকা হ্রদের তলায় চলে গিয়েছিল এই অষ্টম আশ্চর্য।

দীর্ঘ দিনের গবেষণা ও প্রচেষ্টার পর ধ্বংসাবশেষ থেকে আশ্চর্য সিলিকা টেরিসটি খুঁজে বের করতে সফল হয়েছেন গবেষকরা। সোপানটি জুড়ে রয়েছে হট স্প্রিং। ২০১১ সালে ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্রথম এই গোলাপী সোপানের একাংশ আবিষ্কার করেছিলেন। তারপর চলে দীর্ঘ গবেষণা। ২০১৬ সালে তাদের গবেষণার কথা নিউজিল্যান্ডের জার্নাল অফ দ্য রয়েল সোসাইটিতে প্রকাশ হয়।

গবেষক রেক্স বান এবং ড. সাচ্চা নলডেনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিলিকা হ্রদ নিচে নয় হ্রদের ধারে ১০ থেকে ১৫ মিটার নিচে রয়েছে। পুরো এলাকাটি সমীক্ষা করার পর তারা বুঝতে পারেন, যে স্থানটিতে স্তর থাকার কথা সেটা আসলে ৩৫ মিটার দূরে। বান অবশ্য সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন, তিনি এই স্থানটিতে গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন।

দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষক রেক্স বান বলেন- ‘ধ্বংসের আগে পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় দর্শনীয় স্থানের মধ্যে একটি ছিল সিলিকা টেরিস। মনোরম সেই সোপান দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেত। সাধারণরাই শুধু নন, এর আকর্ষণে ব্রিটিশ রাজা থেকে সুদূর আমেরিকার মান্যগণ্য ব্যক্তিরাও এসে উপস্থিত হতেন। তবে সেই সময় এ উপত্যকা নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সঠিক জানা যায়নি।’

তিনি এও জানান, এর আগে ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াইকাটো এবং দ্য উডস হোল ওস্যানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছিলেন তারা গোলাপী-সাদা স্তরের সন্ধান পেয়েছেন। কিন্তু গত বছর জিএনএস সায়েন্স নিউজিল্যান্ড অনুযায়ী পাঁচ বছরের গবেষণার পর জানা যায়, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলে এই স্তরটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

তবে বান এখন জিএনএসের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলছেন। তবে বিজ্ঞানীরা এতোদিন ভুল তথ্যের ওপর কাজ করছিলেন বলেই মনে করেন তিনি। যদি বানের এ কথা সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে এটিই হবে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য।






মন্তব্য চালু নেই