মেইন ম্যেনু

বিশ্বের সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর, অসুখী ও অনিরাপদ দেশের তালিকা

লন্ডন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘দ্য লেগাটুম ইনস্টিটিউট’ এ সপ্তাহেই প্রকাশ করেছে অ্যানুয়াল প্রস্পারিটি ইনডেক্স। এ তালিকায় ১৪২টি দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে যারা তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে।

উন্নয়ন বলতে অধিকাংশরাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু উন্নয়নের অবস্থা বুঝতে ৮৯টি শর্তপূরণকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। শেষ অবধি ৮টি বিষয়ের ওপর ভিত্তিকে বিশ্বের সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর, অসুখী, দরিদ্র এবং অনিরাপদ দেশের তালিকা করেছে লেগাটুম ইনস্টিটিউট। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, উদ্যোক্তা, ব্যবসার সুযোগ, রাষ্ট্রপরিচালনব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সামাজিক বিনিয়োগ- এ ৮টি শর্তকে বিবেচনায় আনা হয়েছে। এখানে দেখে নিন অস্বাস্থ্যকর, অসুখী, দরিদ্র এবং অনিরাপদ ২২টি দেশের নাম।

২২. মৌরিতানিয়া : উত্তর আফ্রিকার দেশটির সোশাল ক্যাপিটাল ভালো। অন্যান্য শর্তের ভিত্তিতে অনেকগুলো দেশের পেছনেই রয়েছে। ১৪২টি দেশের মধ্যে ৫৯তম অবস্থানে রয়েছে এরা।

২১. মালাউয়ি : রাষ্ট্রপরিচালনার দিকে থেকে এর স্কোর দারুণ। তবে গতবারের চেয়ে ৪ ধাপ পিছিয়েছে।

২০. ইরাক : বর্তমানে আইএস-এর দখলে রয়েছে। ১৪২টি দেশের মধ্যে ১২৩তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি এবং সামাজিক বিনিয়োগের দিক থেকে এখনো বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

১৯. সিয়েরা লিওন : এবোলার আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে দেশটি। তবে ১৪২টি দেশের মধ্যে ৫৪তম অবস্থানে রয়েছে।

১৮. নাইজেরিয়া : আফ্রিকায় অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেও অন্যান্য শর্তে তারা অনেক পিছিয়ে। জনগণের নিরাপত্তা ইনডেক্সে তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

১৭. ইথিওপিয়া : কয়েকটি ইনডেক্সে বেশ ভালো করলেও উদ্যোক্তা ও সুযোগের সৃষ্টির ক্ষেত্রে অবস্থা ভালো নয়। শিক্ষায় অনেক পিছিয়ে দেশটি।

১৬. কঙ্গো : সেরা ১০০ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় থাকলেও রিপাবলিক অব কঙ্গোর অবস্থান ১৪২টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম।

১৫. জিম্বাবুয়ে : একুশ শতক থেকে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতিতে দেশটির অবস্থা খারাপ। এ বছরের উন্নয়নকামী দেশের মধ্যে ৫ ধাপ পিছিয়েছে দেশটি।

১৪. টোগো : গিনির উপসাগরের দেশ এটি। নাগরিকদের নিরাপত্তা ইনডেক্সে রয়েছে ৭৫তম অবস্থানে। কিন্তু সোশাল ক্যাপিটাল বলতে প্রায় কিছুই নেই তাদের।

১৩. পাকিস্তান : অর্থনীতি এবং উদ্যোক্তাদের ইনডেক্সে ভালো অবস্থানে থাকলেও অরিপদ দেশের মধ্যে প্রথম পাঁচে রয়েছে তারা। এ বছর র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ পিছিয়েছে দেশটি।

১২. গিনি : পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি উদ্যোক্তা ও সুযোগ সৃষ্টিতে অনেক পিছিয়ে।

১১. লাইবেরিয়া : ২০১৪ সালে এবোলা ভাইরাসের আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে পড়েছে অনেক। তা ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রায় সবার পেছনে দেশটি।

১০. অ্যাঙ্গোলা : দেশটি শেষ দশের শেষে রয়েছে। ১৪২টি দেশের মধ্যে গতবার ১৩২তম অবস্থানে থাকলেও এবার হয়েছে ১৩৩তম।

৯. সুদান : সামাজিক বিনিয়োগ ইনডেক্সে দেশটি প্রথম ৫০-এর মধ্যে রয়েছে। গতবারের ১৩০তম অবস্থান থেকে বর্তমানে ১৩৪তম হয়েছে।

৮. ইয়েমেন : এ তালিকা মতে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন। এ ছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক দেশের প্রথম ১০-এ রয়েছে।

৭. সিরিয়া : প্রোসপারিটি ইনডেক্স তৈরি হয় ২০০৯ সালে। তখন সিরিয়া প্রথম ৯০টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছিল। এক ভয়ংকর গৃহযুদ্ধে আজ দেশটির অবস্থা বিপন্ন।

৬. ডেকোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো : এদেশের মানুষরা সবচেয়ে নিরাপত্তাহীন। তবে সোশাল ক্যাপিটালের বিচারে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

৫. বুরুন্ডি : অর্থনৈতিক ইন্ডেক্সে দারুণ পিছিয়ে। সামাজিক বিনিয়োগ ও স্বাস্থ্যখাতেও পিছিয়ে রয়েছে। ১৪২টি দেশের মধ্যে ১৩৮তম অবস্থানে রয়েছে।

৪. চাদ : মধ্য আফ্রিকার দেশটি অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ এগিয়ে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

৩. হাইতি : ২০১০ সালে ভূমিকম্পের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশটি। ১৪২টি দেশের মধ্যে রয়েছে ১৪০তম অবস্থানে।

২. আফগানিস্তান : যুগেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশ। রাষ্ট্রপরিচালনা ইনডেক্সে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

১. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক : এটা আফ্রিকার একেবারে মাঝামাঝিতে রয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বেশ ভালো। কিন্তু উদ্যোক্তা ও সুযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অবস্থা শোচনীয়।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার