মেইন ম্যেনু

বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পদার্থের উদ্ভাবন

বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পদার্থ তৈরি করেছেন অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা। তারা এর নাম দিয়েছেন এন্ডোহেডরাল ফুলারিনস। মূল্যবান এ পদার্থের প্রতি এক গ্রামের মূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি পাউন্ড। এ খবর দিয়েছে দি ইনডিপেনডেন্ট। গত বছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজাইনার কার্বন ম্যাটেরিয়াল নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি মূল্যবান পদার্থ তৈরির ওপর একটি প্রকল্প হাতে নেয়। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানান, এন্ডোহেডরাল ফুলারিনস নামের ফুটবলাকৃতির কার্বন অণুতে রয়েছে নাইট্রোজেন পরমাণু। মূল্যবান এ পদার্থ ব্যবহার করা হবে পরমাণু ঘড়িতে এবং তা আগের যেকোনো যন্ত্রের চেয়ে নির্ভুলভাবে সময় নির্ণয় করতে পারবে।

এদিকে জিপিএস যন্ত্রের মধ্যে পদার্থটি সংযোজন করা হলে ক্ষুদ্রাকৃতির ঘড়িটি এক মিলিমিটার অবস্থান নির্ণয় করতে পারবে নির্ভুলভাবে। যদিও বর্তমানে জিপিএস যন্ত্রগুলো পাঁচ মিটারের কম স্থান নির্ণয় করতে পারে না। তবে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয় করলে এ সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তেমন একটা চোখে পড়বে না। কিন্তু চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বেশ কার্যকর হবে।

এ প্রযুক্তি ব্যবহারে মিটার ও মিলিমিটারের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় হওয়ায় সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ন্যানো পদার্থ বিশারদ ডক্টর কাইরিয়াকোস পোরফাইরাফিস বলেন, ভাবুন, আপনার স্মার্টফোনে ক্ষুদ্র এ পারমাণবিক ঘড়িটি বহন করতে পারছেন। এটা সেলফোনের জগতে বিপ্লব ঘটাবে।

বর্তমানে অধিকাংশ পারমাণবিক ঘড়িই আলমারি আকৃতির। সেখানে এন্ডোহেডরাল ফুলারিনস প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে মাইক্রোচিপের আকৃতি দেয়া সম্ভব হবে। তবে অত্যধিক দামের কারণে পদার্থটির খুব অল্প পরিমাণ হাতবদল হচ্ছে।

কোম্পানিটির প্রথম বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০০ মাইক্রোগ্রাম, যা একটি তুষার কণার এক-পঞ্চমাংশ বা মানুষের একটি চুলের এক-তৃতীয়াংশ ওজনের সমান; যার মূল্য ছিল ২২ হাজার পাউন্ড।