মেইন ম্যেনু

বিশ্বের সেরা ১০ কফিশপ

সারাদিনের পরিশ্রম শেষে এক কাপ কফি দিতে পারে আপনার শরীরকে বাড়তি প্রাণ, মনকে আরো একটু বেশি শক্তি। কফির ভেতরে থাকা ক্যাফেইন নিমেষেই দূরে সরিয়ে দেয় ক্লান্তি। ফিরিয়ে আনে কাজের উদ্যম। কিন্তু সেটা একমাত্র সম্ভব যদি আপনার হাতের মগটাতে থাকে একদম ঠিকঠাকভাবে তৈরি পারফেক্ট এক কাপ কফি।

এমনিতে তো কফি জিনিসটা সব রেষ্টুরেন্টেই পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের সবারটা কী ভালো মানের হয়? সবাই কফি তৈরি করতে পারলেও পারেনা সেরা কফিটা বানাতে। কেবল কিছু নির্দিষ্ট স্থানেই আপনি খুঁজে পাবেন আপনার চাহিদা মতন সেরা কফিটা। তাই জেনে নিন বিশ্বের সেরা কফি তৈরিকারকদের নাম আর বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক ছড়িয়ে থাকা কফি প্রস্তুতকারদের তালিকায় তাদের অবস্থানটা।

১. ম্যাকক্যাফে

ম্যাকডোনাল্ড কেবল তার তৈরি করা বার্গারকেই পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে দেননি, ছড়িয়েছেন তার তৈরি করা ভিন্নরকম কফির দোকান ম্যাকক্যাফেও। প্রথমে ২০০১ সালে আমেরিকায় নিজস্ব দোকান খোলার মাধ্যমে শুরু হয় ম্যাকক্যাফের যাত্রা। এরপর ২০০২ সালে মাত্র এক বছরের ভেতরেই প্রায় ৩০০টি শাখা খুলে ফেলে এটি। বর্তমানে পুরো পৃথিবী জুড়ে মোট ১২০০টি শাখার মাধ্যমে বেশ ভিন্নমানের ও নানারকম স্বাদ এবং উপাদানের মিশ্রণে তৈরি কফি দিয়ে সব কফিপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দিচ্ছে।

২. টাল্লিস কফি

পৃথিবীব্যাপী যদি সেরা কফির তালিকা করা হয় তাহলে তালিকার প্রথম অবস্থানে যেটি থাকবে সেটি হচ্ছে টাল্লিস কফি। আরো অনেক ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের মালিক টম টাল্লি প্রথম ১৯৯২ সালে নিজের কফিশপ টম টাল্লিস কফি খোলেন। দুরকমের কফি পাওয়া যায় এখানে। প্রথমটি দুধসহ আর পরেরটি দুধ ছাড়া। প্রথমটি তাদের জন্যে যারা কফির কড়া স্বাদ নয়, বরং হালকা আমেজটাকে পছন্দ করেন। আর কড়া রকমের কফি প্রিয়দের কাছে দুধ ছাড়া কফিটাই পছন্দের। বর্তমানে ২৩০টি শাখা থাকলেও টাল্লিস কফির প্রধান কার্যালয় আমেরিকার ওয়াশিংটনে।

৩. কফি বিনারি

১৯৭৬ সালে আমেরিকায় প্রথম কফি বিনারি নামের কফিশপটি খোলা হয়। সেসময় এখানে নাশতা, পেস্ট্রি ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কড়া কফি বিক্রি করা হত। বর্তমানে চীন, লন্ডন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ১৪০টি শাখা রয়েছে এর। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোতেও বেশ ভালো প্রভাব রেখে চলেছে এটি।

৪. কোস্টা কফি

৭০ এর দশকে সেরিগো ও ব্রুনো কোস্টা মিলে প্রথম কোস্টা কফির যাত্রা শুরু করে। এরপর অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে আজ অব্দি বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশে ১৮০০০ শাখা ছড়িয়ে দিয়েছে কফিশপটি। বর্তমানে পৃথিবীর সবচাইতে বড় ও সেরা কফিশপ হিসেবে বেশ নামডাক করে ফেলেছে কোস্টা কফি। কেবল কফিই নয়, এর পাশাপাশি এখানে এখন রয়েছে বই পড়া, চলচ্চিত্র দেখা আর পিজ্জা খাওয়ার ব্যবস্থাও।

৫. ক্যারিবু কফি

ঘরে নিয়ে যাওয়া কিংবা বসেই পান করার সুব্যবস্থা রয়েছে ক্যারিবু কফির শাখায়। ফলে ইচ্ছে করলেই বাড়িতে গিয়ে ধীরে সুস্থে কফির আমেজ উপভোগ করতে পারেন আপনি, আবার ইচ্ছে করলেই পারেন দোকানে বসে একটা প্যাস্ট্রি কিংবা পিঠার সঙ্গে সেটাকে সঙ্গ দিতে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে প্রায় ১৪০০টি শাখা রয়েছে ক্যারিবু কফির। যদিও মাঝখানে কিছু ঝামেলার কারণে এর অনেকগুলো শাখাই বন্ধ করে দেওয়া হয়, বর্তমানে বেশ ভালো অবস্থানে আছে কফিশপটি।

৬. লাভাজা কফি

১৮৯৫ সালে প্রথম লুইগি লাভাজার হাত ধরে শুরু হয় লাভাজা কফির যাত্রা। এরপর কত সময় পেরিয়ে গিয়েছে। লুইগি চলে গিয়েছেন, তার ছেলে-মেয়ে গত হয়েছেন। বর্তমানে লুইগির চতুর্থ বংশধরেরা চালিয়ে যাচ্ছে এখনো উত্তরসূরীর এই কফিশপ। কেবল কফি নয়, এখানে কফির নানারকম স্বাদ আর রকমের সঙ্গে উপভোগ করা যায় বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রিসহ নানারকম বেকারির খাবার। শুধু তাই নয়, লাভাজা ক্যাফেতে পাওয়া যায় মুরগীর মাংশ কিংবা জিভে জল এনে দেওযা আর পেট ভরিয়ে দেওয়া নানারকম খাবারের সঙ্গে মানানসই কফিও। ফলে খিদে পেলেও আপনি সহজেই ঢুকে যেতে পারেন এই কফিশপে। বর্তমানে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ব্রাজিলসহ এশিয়ার অনেকগুলো দেশে পাওয়া যায় লাভাজা কফির দেখা।

৭. গ্লোরিয়া জিন্স কফি

এড ও গ্লোরিয়া জিন্স কেভটকোর তৈরি করা এই কফিশপটি পুরো পৃথিবীজুড়েই এখন বিখ্যাত। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও বেশ পছন্দের আর পরিচিত একটি কফিশপের নাম গ্লোরিয়া জিন্স। কেবল কফিই নয়, এখানে আপনি পাবেন কোমল পানীয়, চা ও নানারকমের খাবার। এখানকার সবচাইতে ভালো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উপাদান ও স্বাদের দিকে রাখা কড়া নজর। এছাড়াও ক্রেতাদেরকে কফি দেওয়ার সময় খুব যত্ন নিয়ে কফির পুষ্টিমান ঠিক রাখেন প্রস্তুতকারকেরা।

৮. টিম হরটন

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪,৩০০টি কফিশপের অধিকারী টিম হরটন কফিশপটি নিজেদেরকে ম্যাকডোনাল্ডসের ম্যাকক্যাফের চাইতে পুরো পৃথিবীতে আরো বেশি ছড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান বলে দাবী করেন। ১৯৬৪ সালে প্রথম এনএইচলার টিমর হরটন প্রথম এই কফিশপটি চালু করেন। বর্তমানে পৃথিবীর ছোট-বড় সবগুলো দেশেই আছে এই কফিশপের শাখা।

৯. স্টারবাকস

পুরো পৃথিবীতে গ্লোরিয়া জিন্সের পরেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত আর জনপ্রিয় কফিশপটির নাম হচ্ছে স্টারবাকস। কী নেই এখানে? কফির পাশাপাশি এখানে এলে আপনি পাবেন চা, গ্রীন টি, শেক, বেকারির পণ্য ও মুরগীর স্টিক। চাইলে নিজের পরিবারকে নিয়েও বিশাল একটা অনুষ্ঠান করে ফেলতে পারেন আপনি এখানে। আর তাই স্টারবাকসকে বর্তমানে আর শুধু কফিশপ নয়, একটা পুরো রেষ্টুরেন্টও বলা চলে। কারণ এর ভেতরে প্রবেশ করলে কেবল কফিই নয়, আপনার চাহিদামতন মোটামুটি সবরকমের খাবারই পাবেন আপনি।

১০. ডানকিন ডোনাটস

নামটা শুনে প্রথমটায় একটু অন্যরকম মনে হলেও ডানকিন ডোনাটসের জনপ্রিয়তাও পুরো বিশ্বব্যাপী রয়েছে। আর সেটা তাদের কফির জন্যে। তবে এখানে কফির পাশাপাশি চা আর ডোনাটও পাওয়া যায় অবশ্য। এখানকার কফিতে অন্য আর সব শপের কফির চাইতে একটু অন্য ধাঁচের স্বাদ পাওয়া যায়। আর তাই এর জনপ্রিয়তাও সবার কাছে একটু বেশি। আজ থেকে প্রায় ৩৯ বছর আগে তৈরি হয় এই ডানকিন ডোনাটস। তবে সেটা একদম শুরুর কথা। বর্তমানে পুরো বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২,০০০ শাখা রয়েছে এই কফিশপটির।



« (পূর্বের সংবাদ)