মেইন ম্যেনু

বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের হার রেকর্ড ছাড়িয়েছে

বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের হার রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৩৪ জনকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডের এ সংখ্যা ১৯৮৯ সালের পর থেকে যে কোনো দিক থেকেই সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে ১ হাজার ৬৩৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৪ শতাংশ বেশি। মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ইরান, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। গত বছর ইরানে ৯৭৭ জন, পাকিস্তানে ৩২৬ জন, সৌদি আরবে ১৫৮ জন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইরানে মৃতুদণ্ডপ্রা্প্তদের অধিকাংশই মাদকব্যবসা মামলার আসামি। ২০১৪ সালে দেশটিতে ৭৪৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মৃত্যুদণ্ডের বিশ্বব্যাপি মোট তালিকায় চীনকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। দেশটিতে বছরে হাজারেরও বেশি লোককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পুরো বিষয়টি গোপন রাখা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এ কারণে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বিষয়ক কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয় না। সম্ভাব্য হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে চীনই শীর্ষস্থানীয়। চীনের মতো ভিয়েতনামও মৃত্যুদণ্ডের কোন সংবাদ প্রকাশ করা হয় না। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বেলারুশেই শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে।

অপরদিকে গত বছর প্রথমবারের মতো শাস্তি হিসেবে মৃতুদণ্ডকে বাদ দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। এগুলো হচ্ছে-ফিজি, মাদাগাস্কার,কঙ্গো-ব্রাজ্জাভিল্লে ও সুরিনাম। মঙ্গোলিয়াও মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়ে নতুন করে শাস্তিমূলক আইন প্রণয়ন করেছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব সলিল শেট্টি বলেন, গত বছর মৃত্যুদণ্ডের হার বেড়ে যাওয়া ছিল চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।গত ২৫ বছরেও বিশ্বব্যাপী এতো লোককে এ দণ্ড দেওয়া হয়নি। ইরান, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে এ সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক বিচারের অনুপস্থিতি ছিল। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।



« (পূর্বের সংবাদ)