মেইন ম্যেনু

বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাঘ্রগর্জন, বলল ভারতীয় মিডিয়া

ভারতীয় মিডিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়কে ‘ বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাঘ্রগর্জন’ আখ্যা দিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম করেছে ‘আফ্রিকান সিংহও বিধ্বস্ত, বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাঘ্রগর্জন’।

আনন্দবাজার সংবাদটির শুরু করেছে এভাবে- ইতিহাস ছোঁয়ার চিহ্ন হিসেবে একটা স্টাম্প তুলে নিলেন লিটন দাস। ক’জনের চোখে পড়ল, সন্দেহ আছে। তার কয়েক মুহূর্ত আগে ইমরান তাহিরকে মিডউইকেট দিয়ে যে মসৃণ বাউন্ডারিটা মেরেছেন, তার পর আর ক’জন বাঙালির দৃষ্টিই বা স্পষ্ট ছিল! চট্টগ্রামে যে উৎসবের ভূকম্পনের উৎস, তার শিহরণে তখন কাঁপছে গোটা বাংলাদেশ। কাঁপছে, নাচছে, হাসছে, কাঁদছেও।

এই মিডিয়াটি আরো লিখেছে- ক্রিকেটবিশ্বের ‘ছোট ভাই’ তকমা লাগানো আজীবনের অস্তিত্ব সদর্পে, পাকাপাকি ভাবে ঝেড়ে ফেলার দিন তো আর একটামাত্র আবেগে আটকে থাকে না! জিম্বাবুয়েকে হারানোটা ফ্লুক হয়ে থাকতে পারে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়কে সমালোচকেরা ব্যাখ্যা করতে পারেন এটা বলে যে, ইউনিস খানরা কবে আর ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে পেরেছেন? বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের ২-১ এ উড়িয়েও কারও কারও কাছে শুনতে হয়েছিল, টানা ক্রিকেট খেলে টিম ইন্ডিয়া ক্লান্ত।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ উড়িয়ে দেওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলে সমালোচক-কুল একটু সমস্যায় পড়তে পারেন। ডেল স্টেইন বা এবি ডি’ভিলিয়ার্স টিমে ছিলেন না, কিন্তু এই টিমকে মোটেও দ্বিতীয় সারির বলা যাবে না। ব্যাটিংয়ে হাসিম আমলা, ফাফ ডু’প্লেসি, জেপি ডুমিনি, ডেভিড ‘দ্য কিলার’ মিলার, বোলিংয়ে মর্নি মর্কেল-ইমরান তাহিরের অভিজ্ঞ গতি-স্পিন জুটির সঙ্গে কাগিসো রাবাদার সাড়া-জাগানো টাটকা পেস।

এই টিমের বিরুদ্ধে সিরিজ ১-১ রেখে চট্টগ্রামে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নেমেছিলেন মাশরাফি মর্তুজারা। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী টিমের বিরুদ্ধে কোনও দিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জেতেনি বাংলাদেশ। নিজেদের দেশে পরপর চারটে সিরিজ জয় দেখেননি বঙ্গ সমর্থকেরা। বুধবারের পর যারা নিজেদের অসীম ভাগ্যবান মনে করলে ভুল করবেন না। ক্রিকেট-গর্বের দেশজ রাজপ্রাসাদের এক-একটা ইঁট স্থাপন প্রত্যক্ষ করা ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে এর চেয়ে বেশি সুখের কী হতে পারে? বাংলাদেশের জয়টিকে এভাবেই বর্ণনা করল ভারতীয় এই মিডিয়া।

রিপোর্টে খেলার বর্ণনায় বলা হয়- মর্তুজা, লিটন, মুস্তাফিজুর, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, নাসির হোসেন বুধবারের পর এই নামগুলোও তো আরও বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। র‌্যাঙ্কিং, ওজনদার বিপক্ষ, প্রাকৃতিক খেয়াল কোনও কিছুই এদের কাছে গ্রাহ্য করার মতো নয়। আশির ঘরে দক্ষিণ আফ্রিকার চারটে উইকেট ফেলে দেওয়ার পর যে বৃষ্টিটা নামল চট্টগ্রামে, তাতে মনে হয়েছিল খেলা বোধহয় আর হবে না। বা হলেও ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মের গোলকধাঁধায় পথ হারাবে বাংলাদেশ।

তেমন কিছুই শেষ পর্যন্ত হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা হল, বৃষ্টি থামার পরেও বাংলা-বোলিংয়ের বিষ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে বিপক্ষের ব্যাটিং-শিরদাঁড়ায়। বৃষ্টিতে কমে ম্যাচ চল্লিশ ওভারে দাঁড়িয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৬৮-তে আটকে রেখেছেন সাকিব-মুস্তাফিজুররা। তার পর ব্যাট করতে নেমে যা করেছেন, তাকে ছেলেখেলা ছাড়া কিছু বলা যায় না। উল্টো দিকে বল হাতে মর্কেল থাকুন বা তাহির, তামিম-সৌম্যর ওপেনিং জুটি নিজের ইচ্ছেয় রান তুলে গিয়েছে। ১৫৪-র ওই পার্টনারশিপে ক’ভাগ স্বাচ্ছ্যন্দের সঙ্গে ক’গ্রাম টেকনিক ছিল, নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন আর ঔদ্ধত্যের অনুপাতই বা কতটা আগামী কয়েক দিন বঙ্গ-সমর্থকদের আনন্দের তর্কবস্তু হয়ে থাকবে সন্দেহ নেই।

রিপোর্টের শেষে মন্তব্যে বলা হয়- কে বলবে, যে দেশে ক্রিকেট খেলতে যাওয়াটা এক সময় বিপক্ষের কাছে সুখসফরের বেশি কিছু ছিল না। এই বাংলাদেশ যে আর শুধু ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামে না। নামে, খেলতে আর জিততে!

ভারতের আরেক জনপ্রিয় মিডিয়া ‘আজকাল’ লিখেছে- ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয় যে ফ্লুক ছিল না, প্রমাণ করে দিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও সিরিজ জিতে নিলেন মাশরাফি মর্তুজারা। বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ একদিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিল। এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা ৪টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।