মেইন ম্যেনু

বিসিএসের আদলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ

বিসিএসের আদলেই রাষ্ট্রায়ত্ত ১২টি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি (বিএসসি) আগামী বছর থেকে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। এ লক্ষ্যে ‘সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রবিধানমালা-২০১৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও জুনিয়র অফিসার ক্যাশ বা সমমান পদে ১৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর জাগো নিউজের।

সূত্র জানায়, যেসব ব্যাংকের নিয়োগের আবেদনপত্র আহ্বান করা হবে, সেসব ব্যাংকের নাম পছন্দক্রমে উল্লেখ করতে হবে। নিয়োগ প্রার্থীদের আবেদন করার সময় বিসিএসের মতোই পছন্দক্রম দিতে হবে। পরীক্ষা শেষে মেধাক্রম অনুসারে পছন্দসই ব্যাংকে নিয়োগ দেয়া হবে। বহুনির্বাচনী, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়া হবে।

সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলা হলো- সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত নিয়োগবিধি অনুসারে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সব পর্যায়ে নিয়োগ দিয়ে আসছিল। আর এতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে; যার প্রমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখেও ধরা পড়ে। তাই স্বচ্ছতার জন্য ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চেয়ারম্যান করে বিএসসি গঠন করে সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়। সোনালী, জনতা, কৃষি ও অগ্রণীসহ কয়েকটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস বলেন, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার লায়লা বিলকিস আরাকে সদস্য সচিব করে ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ও বিএসসির সদস্য সচিব লায়লা বিলকিস আরা এ বিষয়ে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা একসঙ্গে গ্রহণের জন্য প্রবিধানমালা সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই প্রবিধানমালা সব সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়ার আশা প্রকাশ করে লায়লা বিলকিস আরা আরও বলেন, সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও জুনিয়র অফিসার ক্যাশ পদে তিন ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। এই তিনটি পদের জন্য পৃথক আবেদনপত্র আহ্বান করা হবে। বিএসসি এখন সব ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছে। তাই প্রতিটি ব্যাংকের জন্য পৃথক আবেদন আহ্বান করে পরীক্ষা নেয়ায় অনেক সময় লাগছে এবং নিয়োগ প্রার্থীদের কয়েকটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। একসঙ্গে পরীক্ষা নিলে এত ঝামেলা থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান-বিভাগে প্রতি বছরই প্রায় ১০ হাজার পদ শূন্য হয়। ইতোমধ্যে অনেক পদ শূন্য রয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য শূন্যপদ পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে বিএসসির মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণে সমন্বিত পরীক্ষা নেয়া হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। এটি চাকরি প্রার্থীদের জন্যও সহজ হবে। ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শূন্যপদের তালিকা বিএসসির কাছে পাঠাবে। আর বিএসসি সেই অনুযায়ী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করবে।