মেইন ম্যেনু

বিস্ময়কর বালক! ব্যবসা শুরু ৫বয়সে, কোম্পানির মালিক ১০ বছর বয়সে!

নিউ ইয়র্কের কনকনে ঠাণ্ডায় বাসে চড়ে রোজ স্কুল যেতে প্রবল আপত্তি ছিল করির। তার মায়ের ক্ষমতা ছিল না গাড়ি কেনার। তাই পাঁচ বছরের করি ঠিক করে, অর্থ উপার্জন করা ছাড়া গতি নেই। যেই ভাবা সেই কাজ! বাড়ির বাইরে গরম কোকো বিক্রির ছোট্ট স্টল খোলে সে। ধীরে ধীরে সেখানে মায়ের তৈরি কিছু বেক করা খাবার যোগ করে। আর এভাবেই পথচলা শুরু করে ‘মিস্টার করি’স কুকিজ’।

স্রেফ কুকি তৈরি করে ব্যবসায় সাড়া ফেলে দেওয়া। আবার নামি ব্র্যান্ডের জনপ্রিয় মডেল হিসেবে পরিচিতি। ইনস্ট্যাগ্রামে অনুরাগীর সংখ্যা এর মধ্যেই ৩৩,০০০ ছড়িয়েছে। মাত্র দশ বছর বয়সে সেলিব্রিটির তকমা অর্জন করতে সফল নিউ ইয়র্কের করি নিয়েভস।

প্রথম দিকে ইন্টারনেট ঘেঁটে কুকি তৈরির রকমসকম রপ্ত করলেও ক্রমে মাথা খাটিয়ে নিজস্ব রেসিপি উদ্ভাবন করে করি। সে জানিয়েছে, তার কুকির ৭৫ শতাংশ উপাদানই জৈবিক। সেখানে কোনো সংরক্ষক বা প্রিজারভেটিভস ব্যাবহার করা হয়না।

দু’ বছর পার হতে না হতেই ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে করি ও তার মায়ের। ২০১২ সালে মা আর ছেলে মিলে সংস্থাটির সরকারি নথিভুক্তিকরণ করায়। ততদিনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির হেঁশেলে আর কুলিয়ে ওঠে না। তাই কুকি তৈরি করতে বাণিজ্যিক কিচেনেরব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রতি সপ্তাহ শেষে ১০০০ কুকি তৈরি করা হয়। সামনেই শীতের ছুটি। তাই বড়সড় অর্ডারের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে করি’স কুকিজ-এ। তাছাড়া সংস্থার ওয়েবসাইট মারফতও চলেছে বিপুল বিক্রি।

সম্প্রতি এক টিভি শোয়ে অংশগ্রহণ করে সংস্থার সিইও করি নিয়েভস। সে জানায়, ব্যবসা শুরুর সময় ‘মাস্টার বেকার’ হিসেবে তার মায়ের আয় ছিল ১৫ ডলার, কিন্তু বিক্রি বাড়ায় তার বেতন ১০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। ওই টক শোয়ে এক আলোকচিত্র সংস্থার তরফে একটি কুকি জারে তাকে ১০,০০০ ডলার পুরস্কার দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, টিভি চ্যানেলটির তরফ থেকে উপহার দেওয়া হয় মিস্টার করি’স কুকিজ-এর লোগো সমৃদ্ধ ঝাঁ-চকচকে গাড়ি। অনুষ্ঠানে দর্শক আসনে উপস্থিত করির মা এই দৃশ্য দেখে আবেগে ভেসে যান।

তবে এখানেই থামতে চায় না করি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জানিয়েছে, স্কুলের পাঠ শেষ করে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সে খোঁজখবরও করেছে বলে টিভি সাক্ষাত্কাযরে জানিয়েছে। আপাতত উচ্চতর বিদ্যার্জনের জন্য সে অর্থ সঞ্চয় করছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু ব্যবসাই নয়, ইনস্ট্যাগ্রাম পেজে করির পোশাক-আশাক নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। অনেকেই তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কে এইসব বেছে দেন। জবাবে করির মা জানিয়েছেন, ফ্যাশনের প্রতি ছোট থেকেই ঝোঁক করির। ব্যবসা বাড়ার পর নিজের শখ মেটাতে সে সদাই উদগ্রীব। এ ব্যাপারে করির বক্তব্য, ‘আমার ফ্যাশনদুরস্ত ভাবমূর্তি কুকি বেচতে সাহায্য করে। তাই সাজগোজ করলে ক্ষতি কি?’

করির ফ্যাশন সেন্স দেখে অনুপ্রাণিত বিশ্ববিখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ডগুলিও। ইতিমধ্যে টমি হিলফিগার ও র্যা ল্ফ ল্যরেন-এর মতো নামী ব্র্যান্ড তাকে মডেল করে শ্যুট করেছে। এছাড়া টিভি কমার্শিয়ালে অভিনয় করেও নাম করেছে কুকি কোম্পানির খুদে কর্তা।