মেইন ম্যেনু

বিস্ময় বালক মোসাদ্দেকের আট মাসে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি

আরেকজন মুমিনুল হকের সন্ধান পেয়ে গেলো বাংলাদেশ? মুমিনুলকে বলা হয় বাংলাদেশের জেনুইন টেস্ট ব্যাটসম্যান। বরিশাল বিভাগের ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেকের ব্যাটিং দেখলে যে কেউ বলে দেবেন, আরে এ তো জেনুইন টেস্ট ব্যাটসম্যান!

বয়স প্রায় ২০ ছুই ছুঁই। এতটুকু বয়সে ব্যাট হাতে উইকেটে নামা মানেই যেন রানের ফুলঝুরি। একের পর এক ডাবল সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে খেলেছেন মাত্র ১১টি। এ নিয়ে ১২তম ম্যাচ। তাতেই বিস্ময়কর ব্যাটিং করেছেন বরিশাল বিভাগের এই ব্যাটসম্যান। গত আট মাসে তুলে নিয়েছেন তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। আড়াইশ’র ওপর রান রয়েছে দুটি (২৮২ এবং ২৫০)। আর সেঞ্চুরি? সে তো যেন বলে কয়েই হয়। গত কিছু দিনে করেছেন তিনটি সেঞ্চুরি। আর এবার ডাবল সেঞ্চুরি করে সঙ্গীর অভাবে ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। অপরাজিত থেকে গেলেন ২০০ রানেই।

বছরের শুরুতেই ১৬তম জাতীয় ক্রিকেট লিগে পর পর দুই ম্যাচে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দেন মোসাদ্দেক। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ২৫০ রানের ইনিংস। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসেই খেলেছিলেন ২৮২ রানের ইনিংস। অল্পের জন্য ত্রিপল সেঞ্চুরি হলো না তার।

এরপর ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগে সাউথ জোনের হয়ে দুটি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচে করেছেন দুটি সেঞ্চুরি (১৫৩ ও ১১৯ রান)। চলমান ১৭তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডেই ১২২ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে খেলে ফেললেন আরকেটি ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস।

অকেশনাল বোলিংও করে থাকেন মোসাদ্দেক। ডানহাতি অফব্রেক। মাঝে-মধ্যে বেশ কার্যকরি বোলিং করেন। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে সেরা বোলিং ফিগার ৩৩ রানে ৪ উইকেট। ১১ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

ওয়ালটন ১৭তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় পর্বের খেলার দ্বিতীয়দিনে মোসাদ্দেক হোসেনের ডাবল সেঞ্চুরিতে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে বরিশাল বিভাগ। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে এনসিএলের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে প্রথম দিনের ২৯৫ রান নিয়ে খেলতে নেমে দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতি পর্যন্ত ৫২৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল বিভাগ। সিলেটের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামেন বরিশাল বিভাগ।

আগের দিনের ৩১ রানে অপরাজিত থাকা মোসাদ্দেক হোসেন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ডাবল সেঞ্চুরি করে। ২৪৫ বলে ২০০ রান পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। ১৫ চার ও ৭ ছয়ে ইনিংসটি সাজান তিনি। ইনিংসের ১২৬তম ওভারে এনামুল হক জুনিয়রের ১ম বলে ডাবলস নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন।

সিলেট বিভাগের বোলারদের মধ্যে এনামুল হক জুনিয়র ও আবুল হাসান ৩টি করে উইকেট পান। এছাড়াও রাহাতুল ফেরদৌস ২টি ও সাদিকুর রহমান ১টি করে উইকেট তুলে নেন।

বরিশাল ১ম ইনিংস: ১২৬.১ ওভারে ৫২৭/৯ (ডিঃ) (শাহরিয়ার ৫২, শাহিন ৫৮, ফজলে রাব্বি ১০৩, সজিব ১৩, মোসাদ্দেক ২০০*, সোহাগ গাজী ২৮, আল-আমিন ৩, সালমান হোসেইন ২২, কামরুল ইসলাম রাব্বি ১৬, মনির হোসেন ১৯, তাওহিদুল ইসলাম ১ বল খেলে কোন রান করতে পারেননি। এনামুল হক জুনিয়র ৩/১১০, আবুল হাসান ৩/৪৫, রাহাতুল ফেরদৌস ২/১৩২ ও সাদিকুর ১/৭৬)।