মেইন ম্যেনু

বিড়ালপ্রেমীরা কি সিজোফ্রেনিয়ার শিকার হতে পারে?

আপনি ভাবছেন, সিজোফ্রেনিয়ার সাথে বিড়ালের কি সম্পর্ক থাকতে পারে? সম্পর্ক আছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে বিড়াল পুষতে ভালবাসেন এমন ব্যাক্তিদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়াসহ আরও কিছু মানসিক সমস্যা গড়ে ওঠে। সম্ভবত এর কারণ এক প্রকারের পরজীবী।

হাফিংটন পোস্ট এই বিষয়ে একটি জার্নাল প্রকাশ করে। ‘Schizophrenia Research’ শিরোনামের জার্নালটিতে গবেষকরা লিখেন, সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের মধ্যে অনেকেই বিড়ালের মালিক অথবা এমন পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে বিড়াল পোষা হয়। শুধু সিজোফ্রেনিয়া নয়, এদের অনেকে অন্যান্য আরও জটিল মানসিক রোগে ভুগে থাকেন।

১৯৮২ সালের একটি গবেষণামূলক প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হয় ২,১২৫টি পরিবারকে। এই পরিবারগুলো ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল ইলনেস থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বিজ্ঞানীরা দেখেন এদের মধ্যে যাদের সিজোফ্রেনিয়া রয়েছে তাদের ৫০.৬ শতাংশই ছোটবেলায় বিড়াল পুষতেন। এক্সপার্টরা বলেন, এই ফলাফল ১৯৯০ সালের আরও দুইটি গবেষণার সাথে মিলে যায়।

প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন মানুষ তাদের জীবদ্দশায় সিজোফ্রেনিয়ার শিকার হন। তবে গবেষকদের মতে, এর বয়সসীমা সাধারণত ১৫-৩৫ বছর। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ যার ফলে হতে পারে হ্যালুসিনেশন, বিভ্রম এবং আচরণগত পরিবর্তন। বিড়ালের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষকরা এখনও গবেষণা করে যাচ্ছেন। Toxoplasma gondii নামক একটি এককোষী পরজীবী যা বিড়ালের শরীরে বাসা বাধে। গবেষকরা ধারণা করছেন, এই পরজীবীই হতে মানসিক রোগের সাথে বিড়ালের সংযোগের কারণ।

স্ট্যানলে মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর গবেষক ই. ফুলার টরে বিড়াল এবং সিজোফ্রেনিয়ার সম্পর্কের উপর গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। হাফিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, এই পরজীবীটি মানুষের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং আণুবীক্ষণিক সিস্টে পরিণত হয়। পরবর্তীতে এটি স্বক্রিয় হয়, রোগের সৃষ্টি করে এবং সম্ভবত নিউরোট্রান্সমিটারকে ক্ষতিগ্রস্থ করে!

এবার তাহলে ভেবে দেখুন, আদরের বিড়ালটি আপনার অস্বভাবিক কোন মানসিক ব্যাধির কারণ হতে যাচ্ছে কি?