মেইন ম্যেনু

বিড়ালের মৃত্যুতে থানায় অভিযোগ; অনশনের পথে দম্পতি

ইদানিং লেডিকেনির সঙ্গে বেশ ভাব হয়েছিল ওয়ানের৷ লেডিকেনিও পুরোনো প্রেমিককে ছেড়ে ওয়ানকেই গুরুত্ব দিচ্ছিল বেশি৷ দু’জনে সারাক্ষণ একে অন্যের সঙ্গে ঘুরঘুর করত৷ গত ১২ তারিখও লেডিকেনির সঙ্গেই ঘর থেকে বেরিয়েছিল ওয়ান৷ আর ফেরেনি৷ পাঁচ দিন পর পাশের নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় তার থ্যাঁতলানো নিথর দেহ৷

ওয়ান আসলে ১০ মাসের একটি ফুটফুটে বিড়াল৷ পাটুলি এলাকার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আদরযত্নেই বড় হয়ে উঠছিল সে৷ তার অকালমৃত্যুর প্রতিবাদে পথে নেমেছেন ডিভাসহেভেন নামে ওই পশুপ্রেমী সংগঠনের কর্তারা৷ সৈকত ও সুদীপা সরকার৷ ওয়ানের মৃত্যুর পর পাটুলি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা৷

গত সোমবার বেলগাছিয়া পশু হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়েছে ওয়ানের মৃতদেহের৷ যদিও, এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ রবিবার, বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি মেলার মাঠের পাশে আয়োজিত ওয়ানের শোক এবং প্রতিবাদসভায় দাঁড়িয়ে বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন সেই দম্পতি৷ জানালেন, প্রয়োজনে অনশনেও বসতে পারেন তাঁরা৷ ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এমন খবর নিশ্চিত করেছে।

কালো মেঘে ঢাকা থমথমে কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের পাটুলি মাঠ যেন তখন আরও বেশি থমথমে৷ ছোট্ট স্টেজে লাগানো মাইক৷ লাল কাপড়ে সাঁটা কিছু ছবি৷ সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে নিচু গলায় কথা বলছিলেন জনা বিশেক মানুষ৷ ওয়ানের শোকসভা৷ সৈকত বলছিলেন, ‘যাতে আর কোনও ওয়ানকে এমন কষ্টদায়ক মৃত্যু না পেতে হয়, তাই আমাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি৷’

সরকার দম্পতির বাড়িতে এখন আশ্রয় ৪০টিরও বেশি বিড়ালের৷ রাস্তার ধারে ফেলে যাওয়া, অসুস্থ বিড়ালকে যত্ন করে তুলে এনে সযত্নে লালন-পালন করেন তিরিশ পেরোনো সৈকত-সুদীপা৷ নিয়মমতো স্টেরিলাইজেশন, ভ্যাক্সিনেশন, ভালো খাবার, খাট-বালিশ-বিছানা সবই মেলে এ বাড়ির বিড়ালদের৷ সৈকত-সুদীপার গলায় তাই প্রতিবাদের অঙ্গীকার, ‘ওয়ান প্রাণী বলে যে কেউ ওকে খুন করে পার পেয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই৷ আমরা এর শেষ দেখব৷’

কারা ওয়ান-কে খুন করে থাকতে পারে, তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছেন সরকার দম্পতি৷ সুদীপাদেবীর কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরেই পাশের নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটের লোকেরা আমাদের বিড়ালগুলোর ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল৷ একটা কালো বিড়ালকে দেড় দিন বস্তাবন্দি করে রেখেছিল ওরা৷ বিড়ালদের খাবারে বিষও মিশিয়ে দিয়েছিল একবার৷ আমাদের সন্দেহ, ওরাই খুন করেছে ওয়ানকে৷’

ওয়ানের জন্য বিচার চেয়ে ‘জাস্টিস ফর ওয়ান’ নামে ফেসবুকে পেজ তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই৷ প্রতিদিন অজস্র লাইক, মন্তব্য এসে জমা হচ্ছে সেই পেজে৷ প্রতিবাদসভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর কলকাতার অপ্রতিম বা যাদবপুরের অদিতি, অলঙ্কৃতা৷ অদিতির বাড়িতে ১৪টি বিড়ালের অনেকেই অনেকবার পাড়া-প্রতিবেশীর অত্যাচারের শিকার হয়েছে৷ ‘গরম জল ঢালা থেকে, মারধর, কত কী করা হয় ওই বিড়ালদের৷ আমরা ওদের খাবার দিই বলে পড়শিদেরও অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধেই৷ আমাদের মনে হয়, মানুষকেই আগে সচেতন করা দরকার৷ একই সচেতনতার ভাষা পশুপ্রেমী মিত্রা সরকার এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাভ এন কেয়ারের সভাপতি রাখি মিত্রর গলাতেও৷

একটি বিড়ালের অপমৃত্যুতে যে প্রতিবাদ আজ জন্ম নিয়েছে পাটুলির অখ্যাত গলিতে, তা প্রস্ফুটিত হয়ে পশুদের প্রতি নৃশংসতার পথে বাধা হতে পারবে কি? উত্তর লুকিয়ে সময়েই৷