মেইন ম্যেনু

বিয়ের দিনেই বিচ্ছেদ, মর্মান্তিক পরিণতি হল যুবকের

নাবালিকা প্রেমিকাকে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিল প্রেমিক৷ প্রেমিকার বাবা-র করা অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আটক করে প্রেমিক ও প্রেমিকাকে। আদালতের নির্দেশে নাবালিকাকে তুলে দেওয়া হয় তাঁর পরিবারের হাতে। ঠিক তার পরের দিন প্রেমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে আদালতে তোলার আগেই পুলিশের নজর এড়িয়েই জেল থেকে পালায় সে৷ গ্রামবাসীদের সামনেই হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক৷ ঘটনাটি ঝাড়গ্রামের বেলিয়াবেড়া থানার চনাবেড়িয়া গ্রামের৷ এর পরেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গ্রাম।

চনাবেড়িয়া গ্রামেরই বাসিন্দা পঙ্কজ সাউ৷ তাঁর বাবার একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে পাশের গ্রাম নাটাবেড়িয়াতে৷ ওই দোকানে বসতে বসতেই মৌসুমি দোলই(১৭)-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর৷ কিন্তু পঙ্কজের পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার তা মানতে পারেনি৷ বেগতিক দেখে গত শুক্রবার মৌসুমিকে নিয়ে ফেরার হয়ে যান পঙ্কজ৷ মন্দিরে বিয়ে করে বিকেলে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে সে৷ এ দিকে দিনভর মেয়েকে না পেয়ে বিকেলে গোটা বিষয়টি জানতে পেরে, বেলিয়াবেড়া থানায় নাবালিকা মেয়ের অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন মৌসুমির বাবা৷ পুলিশ সেই মতো রাতেই পঙ্কজ এবং মৌসুমিকে আটক করে।

শনিবার ঝাড়গ্রাম আদালতে মৌসুমিকে হাজির করে পুলিশ৷ আদালত সব বিচার করে নাবালিকা মৌসুমিকে পরিবারের হাতে ফেরত পাঠায়৷ অন্য দিকে পুলিশ অভিযুক্ত পঙ্কজকে গ্রেফতার করে রবিবার ফের আদালতে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়৷ তার আগেই রবিবার পুলিশের নজর এড়িয়ে লক-আপ থেকে পালিয়ে যায় পঙ্কজ৷ এর পর গ্রামেরই একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে পড়ে সে। গ্রামবাসীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে অনেক বুঝিয়ে নামানোর চেষ্টা করে৷ কিন্তু কারও কথা না শুনে বিদ্যুতের তারে হাত দিয়ে দিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় পঙ্কজ।

পঙ্কজকে উদ্ধার করে তপসিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ পঙ্কজের পরিবারে ফোন করে জানায় পঙ্কজ লকআপ থেকে পালিয়েছে৷ পরে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় পরিবার৷ পুলিশ ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাজির হলে পুলিশকে খুনি তকমা দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা৷ তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতির জেরেই মৃ্ত্যু হয়েছে পঙ্কজের। এর পরেই ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। পুলিশের ওসি-র ফাঁসির দাবিও তোলেন তাঁরা৷ বেলা সাড়ে তিনটে পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় তপসিয়াতে৷ শো-কজ করা হয়েছে থানার ওসি-কেও। ঝাড়গ্রামের এসডিপিও বিবেক বর্মা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। -এবেলা।