মেইন ম্যেনু

বিয়ের প্রথায় যত উদ্ভট ও বিচিত্র যত পাগলামী!

সারা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রথায় বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে থাকে নানান রীতি। দেশ, ধর্ম, গোষ্ঠী, সংস্কৃতি ভেদে বিভিন্ন রকমের আয়োজন যোগ হয়। এর কোনটি মজার, কোনটি উদ্ভট, কোনটি আবার কুসংস্কার। আসুন জেনে নিই এরকম কিছু প্রথার কথা।

বধুকে কালো করা, স্কটল্যান্ড
বিয়ের দিনটি হয় একটি মেয়ের জন্য সবচেয়ে আনন্দের। কনের এই আনন্দে সামিল হয় তাঁর পুরো পরিবার আর বন্ধু-বান্ধব। তাঁর প্রতি যত্ন, ভালবাসা প্রকাশ করে তারা, কিন্তু একটু ভিন্ন পথে। তারা কনের গায়ে ঢেলে দেয় বিভিন্নরকম নোংরা জিনিস, নষ্ট দুধ, খাবার, মরা মাছ, সস, মাটি, ময়দা, যা কিছু পাওয়া যায় সেগুলোর সব!

পূর্ব পরিকল্পিত কান্না, চীন

বিয়ের দিন পরিবারকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে বধুর কান্না দেখে অভ্যস্ত আমরা সবাই। তবে চীনের তুঝা গোষ্ঠীর কাছে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে বিয়ের ১ মাস আগে থেকে মেয়েরা কান্নার অনুশীলন করে প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে। ১০ দিন পর কনের মা যোগ দেয় কান্নায়, আরও ১০ দিন পর যোগ দেয় দাদী-নানী। বিয়ের দিনে যোগ দেয় অন্য নারীরাও। বিভিন্ন নারীকন্ঠে কান্নাকে শুভ মনে করা হয় এখানে!

গাছের সাথে বিয়ে, ইন্ডিয়া

ইন্ডিয়ায় যে সকল মেয়েরা মঙ্গোলিক (ফলিত জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী যখন মঙ্গল এবং শনি গ্রহ একই সাথে সপ্তম ঘরে অবস্থান করে) হয়ে জন্মায় বিশ্বাস করা হয় তারা অভিশপ্ত এবং এই অভিশাপ তাদের স্বামীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই অভিশাপ কাটাতে আগে একটি গাছের সাথে বিয়ে দেওয়া মঙ্গোলিক মেয়েটিকে, এরপর কেটে ফেলা হয় গাছটি।

বরের পায়ে পেটানো, কোরিয়া

কোরিয়ান প্রথা অনুযায়ী বিয়ের রাতে বরের পায়ে মারা হয় মাছ বা বেত অথবা চাবুক দিয়ে! তবে বেশি সময় চলে না এই মারধরের পর্ব। আর কষ্টের চেয়ে বেশি মজারই হয় এটি।

মুরগীর বাচ্চার লিভার, মঙ্গোলিয়া,চীন

অদ্ভুত এই প্রথায় বর এবং কনেকে এক সাথে একটি মুরগীর বাচ্চা মেরে ফেলতে হয় ছুরি দিয়ে কেটে। মুরগীর বাচ্চাটির লিভারের অবস্থা দেখে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যদি লিভারের অবস্থা খুব খারাপ হয় তাহলে সেটি বাদ দেওয়া হয় এবং বর-কনে ততক্ষণ পর্যন্ত মুরগীর বাচ্চা হত্যা করতে থাকে যতক্ষণ তারা মনের মত অবস্থায় একটি লিভার না পায়।

টয়লেটে যাওয়া বন্ধ, ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের পর নবদম্পতিকে ৩ দিন আটকে রাখা হয় একটি ঘরে। এসময় তাদের টয়লেট ব্যবহার করা নিষেধ। খুবই অল্প পরিমাণে খাবার আর পানি দেওয়া হয় পরিবার থেকে। বিশ্বাস করা হয়, এভাবে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হবে এবং সুস্থ শিশুর জন্ম হবে ভবিষ্যতে।

জুতা চুরি, ইন্ডিয়া

জুতা চুরির এই প্রথার সাথে পরিচিত আমরা সবাই। বাংলাদেশেও আছে এই অদ্ভুত কিন্তু মজার জুতা চুরির নিয়ম। বিয়ের মঞ্চে উঠতে জুতা খুলতে হয় বরকে। সেই জুতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে বরের পরিবার। আর কনের পরিবার সারাক্ষণ চেষ্টায় থাকে জুতা চুরির। একবার জুতা চুরি হয়ে গেলে বরকে তার বিনিময়ে গুনতে হয় টাকা। টাকার পরিমাণ কত হবে তাই নিয়ে হয় বিস্তর দর কষাকষি।

ক্রস ড্রেসিং, রাশিয়া

যৌতুক প্রথার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে এই প্রথা। প্রথানুযায়ী বরপক্ষ কনের বাড়ি যায়, যৌতুক গ্রহণ করে। এরপর তাঁর সামনে উপস্থিত করা হয় কনেকে। যৌতুক যদি পরিমাণে কম মনে হয় তাহলে আরেকটি বিকল্প বউ নিয়ে আসা হবে এবং দরকষাকষি করা হবে। এই বিকল্প বউ একজন ক্রস ড্রেসিং বন্ধুও হতে পারে! বেশি টাকা অথবা বিকল্প বউ দিতে হবে বরকে।

Délicieux Toilette La Soupe, ফ্রান্স
বিয়ের সবচেয়ে উদ্ভট আর জঘন্য রীতি এটি। বিয়ের পর, সব অতিথির খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তাদের উচ্ছিষ্ট খাবার দিয়ে স্যুপ তৈরি করা হয় এবং একটি টয়লেট আকৃতির বাটিতে সেটি পরিবেশন করা হয়। নবদম্পতিকে ততক্ষণ ছাড়া হয় না যতক্ষণ না তারা এই স্যুপ খেয়ে নেয়। মনে করা হয়, এভাবে বর-কনে কে প্রস্তুত করা যায় তাদের বিশেষ রাতটির জন্য। এখন অবশ্য উচ্ছিষ্টের স্যুপের বদলে দেওয়া হয় চকোলেট, তবে সেটি খেতে হবে ওই টয়লেট বাটিতেই।