মেইন ম্যেনু

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আজগানা ইউনিয়ন থেকে এক কিশোরীকে (১৫) ঢাকায় এনে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থ ওই কিশোরীকে আট দিন ধরে এক আত্মীয়র বাসায় রাখা হয়েছে। এলাকার মাতব্বরদের বিচারের আশ্বাসে এখনো আইনি সহায়তা নেয়নি তার পরিবার।

ওই কিশোরীর ভাষ্য, তার দূরসম্পর্কের খালা ও প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগমের ছেলের শ্যালক মো. মিলন মাসুদের (২০) সঙ্গে প্রায় ছয় মাস আগে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই মিলন বিভিন্ন সময় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মিলনের কর্মস্থল ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায়। গত ১৮ জুন মিলন ফোনে তাকে বলে, ঢাকায় এলে বিয়ে করবে।

ওই কিশোরীর দাবি, সরল বিশ্বাসে মিলনের কথা মতো বাসার কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় আসে। এরপর মিলন তাকে বসুন্ধরা এলাকায় তাঁর কর্মস্থলে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর মিলন তাকে একটি বাসায় তোলেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ওই বাসায় রেখে ধর্ষণ করেন মিলন।

ওই কিশোরী বলে, গত ২৫ জুন মিলনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া খালেকের বাজার এলাকায় নিয়ে যাবেন বলে ভাড়া করা একটি প্রাইভেট কারে তোলেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে মিলন তাকে মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা সেতুর পাশে নিয়ে যান। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। মিলনের কথামত সেও গাড়ি থেকে নামে। এরপর একটু আসছি বলে গাড়ি নিয়ে মিলন পালিয়ে যান। তখন তাকে কাঁদতে দেখে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে। এরপর তার মামার কাছে নিয়ে যায়।

ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ওই কিশোরীর বাবা মারা যান। এরপর থেকে তার মাও অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ। ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানান। তখন অভিযুক্ত মিলনের শাস্তির জন্য এলাকার মাতব্বর কয়েকজনের কাছে যান। তাঁরা বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় আর পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়নি।
এ গ্রামের মাতব্বর আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ওই কিশোরীর অভিযোগ, মিলনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি খালা মনোয়ারা বেগম শুরু থেকেই জানতেন। তার ঢাকার যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জ্ঞাতসারে হয়েছে। প্রথমে মিলন তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মনোয়ারা বেগম ফোন করে মিলনকে বিয়ে না করে ফেলে রেখে যেতে বলায় মিলন এমনটা করেছে। এ জন্য আক্ষেপ করে ওই কিশোরী বলে, ‘আমার জীবনের কোনো মূল্য নেই। আমি অহন মইর‌্যা যামু, মরা ছাড়া কোনো উপায় নাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনোয়ারা বেগম বলেন, মিলনের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি তিনি ছয় মাস আগে জেনেছেন। ওই কিশোরী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর মিলন তাঁকে জানিয়েছিলেন, ওই কিশোরী তাঁর সঙ্গে আছে। তবে, তাকে বিয়ে না করে এভাবে ফেরত দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

ওই কিশোরীকে এখন তাঁর আপন খালার বাসায় রাখা হয়েছে। তার খালা বলেন, ধর্ষণের পর থেকে সে কিশোরী খুবই অসুস্থ। ঠিকমতো খাচ্ছে না। তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে এমনটা উল্লেখ করে ওই খালা বলেন, ‘এতিম অ্যাকটা ম্যাইয়া। ওর উপর যে অত্যাচার করা অইছে, যেভাবে ধর্ষণ করা অইছে, তার বিচার চ্যাই।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।