মেইন ম্যেনু

বিয়ের মালা বদলের সময় বরকে পুলিশে দিল কনে!

বিয়ের আসরে পাত্রপক্ষের বিয়ে ভেঙে দেয়ার ঘটনা কম হয় না। কিন্তু পাত্রীপক্ষের তরফে বিয়ে ভেঙে দেয়া, বিয়ের পিঁড়ি থেকে কনের উঠে যাওয়ার ঘটনা সচরাচর শোনা যায় না। এমনটাই হলো ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত রসুলপুরে। পাত্রের বিরূপ আচরণে ক্ষুব্ধ কনে বিয়ে ভেঙে দিল।

কলকাতা২৪-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানা গেছে।

জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের হাথরার মেধু গ্রামের মেয়ে গুড়িয়ার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল ফিরোজাবাদের দুর্গাপুর এলাকার জিতেন্দ্রর। গত শুক্রবার রাতে রসুলপুরে হাইওয়ের ওপর একটি বাড়িতে তাদের বিয়ের আসর বসে।

বরের অপেক্ষায় লাল চেলি পড়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে লজ্জাবতী নববধূর সাজে সেজে বসেছিল সুশীলা গুড়িয়া। জিতেন্দ্রও তার কথামত গুড়িয়াকে বিয়ে করতে সময়মতই বরের সাজে সদলবলে বিয়ের আসরে হাজির হয়। কিন্তু বিরোধ বাঁধে মালা বদলের আগ মুহূর্তে।

মালা বদলের জন্য বর-কনে দু’পক্ষই বিয়ের মঞ্চে হাজির। কিন্তু হঠাৎ মালা বদলের আগ মুহূর্তে তুতো ভাই এবং বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে শুরু করে জিতেন্দ্র। বরপক্ষের সঙ্গে কনেকেও নাচানোর জন্য জোর করে জিতেন্দ্রর বন্ধুরা।

কিন্তু গুড়িয়া সবার সঙ্গে পরপুরুষদের সঙ্গে নাচতে অস্বীকার করে। কিন্তু বিয়ের মঞ্চে কনেকে নাচাতে অনড় বরপক্ষ। তাই কনের হাত ধরে টানতেও দ্বিধাবোধ করেনি। বেগতিক বুঝে মধ্যস্থতা করতে যান কনের মামা।

কিন্তু জিতেন্দ্রর বন্ধুরা তাকে চড় মারে বলে অভিযোগ। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে যায় কনে। বিয়ের আগেই যদি বরপক্ষের এ ধরনের আচরণ হয় তাহলে বিয়ের পর কী হবে?

এই ভেবে বিয়ের মঞ্চ ছেড়েই বেরিয়ে আসে নববধূ। লজ্জার আবরণ ছেড়ে বরপক্ষকে ফিরে যেতে বলে। মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদ নেমে আসে আনন্দবিহ্বল বিয়ের আসরে। গুড়িয়ার ভাবনাকে তার পরিবারও সমর্থন জানায়।

তাই জিতেন্দ্র তার বন্ধুদের কৃতকর্মে লজ্জিত হয় এবং গুড়িয়াকে বিয়ের আসরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আত্মসম্মানে অনড় গুড়িয়া কোনো কথাই শোনেনি। জিতেন্দ্রকে বিয়ে করা দূরে থাক বরং তার বন্ধু ও তুতো ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বরপক্ষের ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অবশ্য গুড়িয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে এবারের মত পার পেয়ে যায় ধৃতরা। রসুলপুরের এসএইচও শশীকান্ত শর্মা জানান, ধৃতরা গুড়িয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরই তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

শুক্রবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ্যে আসে রোববার। গুড়িয়ার মত সব মেয়ে যদি এভাবে সচেতন হয় তাহলে বরপক্ষরাও অসম্মানজনক কিছু করার সাহস পাবে না।