মেইন ম্যেনু

বিয়ে না করেই একসাথে বসবাস অতঃপর সন্তান ও বাবা-মার একই দিনে বিয়ে!

তিন সন্তান ও বাবা-মা একই দিনে বিয়ে করেছেন! ৭০ বছর বয়সী নানিয়া ও ৬০ বছর বয়সী কালি ‘লিভ-ইন’ পার্টনার ছিলেন। তাদের তিন সন্তানরাও জড়িয়েছিলেন ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে। অর্থের অভাবে তিন সন্তান ও বাবা-মা কেউ-ই বিয়ে করতে পারছিলেন না। অবশেষে একই দিনে বিয়ে করেছেন তারা।

ভারতের রাজস্থানের এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ আদিবাসী সম্প্রদায়ে কোনো বাঁধার সম্মুখীন না হয়েই বিয়ের আগে নিজের ভালবাসার মানুষের সঙ্গে বছরের পর বছর ‘লিভ-ইন’ করা যায়। রাজস্থানের গাড়সিয়া সম্প্রদায়ের এটাই রীতি।

বিয়ে না করে এ সম্প্রদায়ের পুরুষ ও নারীরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। পরে যখন আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আসে, তখন দুজনে বিয়ে করেন। সম্প্রতি এমনই ঘটেছে, ৭০ বছরের নানিয়া গাড়সিয়ার সঙ্গে তার ৬০ বছর বয়সী ‘লিভ-ইন’ পার্টনার কালির। তাদের তিন সন্তানও একই দিনে নিজেদের ‘লিভ-ইন’ পার্টনারকে বিয়ে করেছেন। লিভিং সম্পর্ক থেকেই তাদের তিন সন্তানের জন্ম।

প্রথা অনুযায়ী, কৈশোরে এ সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা নিজেদের পছন্দের সঙ্গির সঙ্গে পালিয়ে যায়। এরপর তারা ফিরে এসে ‘লিভ-ইন’ করতে শুরু করেন। এতে কোনো পরিবার আপত্তি করেন না। নতুন জীবন শুরু করার আগে ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের পরিবারের হাতে কিছু অর্থও তুলে দেওয়া হয়। এরপর যখন এ ‘লিভ-ইন’ পার্টনাররা বিয়ে করেন, সেই সময় বিয়ের সমস্ত খরচও পাত্রপক্ষ বহন করেন।

এমন প্রথার জন্য অনেকে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বাস্তব হলো, এমন সামাজিক উদারতা থাকার জন্যই এ আদিবাসী সম্প্রদায়ে ধর্ষণ বা পণের দাবিতে মৃত্যুর মতো ঘটনা অনেক কমেছে। রাজস্থানের এ আদিবাসী সম্প্রদায়ে নারীদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা পুরুষদের তুলনায় বেশি।