মেইন ম্যেনু

বিয়ে না করেও ৫৫ নারী শয্যাসঙ্গী!

বিয়ে না করেও ‘জামাই রাজা’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। হবেন না-ই বা কেন! বহু নারীর শয্যাসঙ্গী ছিলেন যে! কেবল পুলিশের খাতাতেই তাঁর শয্যাসঙ্গী হয়ে প্রতারিত হতে হয়েছে এমন ৫৫ নারীর নাম লিপিবদ্ধ ছিল।

রাজস্থানের পশ্চিমাঞ্চলে বার্মার জেলার ‘জামাই রাজা’ হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন জিয়ারাম জাট। বার্মারের পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ওই জেলার ১৮টি পুলিশ স্টেশনের পুলিশ একসঙ্গে তাকে খুঁজে বেরিয়েছে। কিন্তু ১০ বছর ধরে পুলিশকে নাকের ডগায় ঘুরিয়ে একের পর এক নারীসঙ্গ এবং প্রতারণা করে গেছে জিয়ারাম। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৫৫ যুবতীর কাছে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তাঁদের শয্যাসঙ্গী হয়েছিলেন জিয়ারাম।

কিন্তু অন্তত ৫৫ নারীর সঙ্গে রাতযাপন! কীভাবে সম্ভব ছিল জিয়ারামের পক্ষে? হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্যমতে, এর জন্য দায়ী উত্তর ভারতের এক প্রাচীন সংস্কৃতি গাউনা। বাল্যবিবাহের প্রথাকে ওই অঞ্চলে গাউনা নামে অভিহিত করা হয়। এ সংস্কৃতিতে খুব ছোটবেলায় বিয়ে দেওয়া হতো ছেলেমেয়ের। প্রাপ্তবয়স্ক হলে ফের তাঁরা একসঙ্গে থাকার সামাজিক স্বীকৃতি পেত।

জিয়ারাম এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছিল। ধরা পড়ার পর নিজের মুখে তিনি স্বীকার করেন, নিম্নমধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারে এই চাল খাটাতেন তিনি। আগে থেকে খোঁজখবর নিয়ে দু-একজন সঙ্গী নিয়ে গাউনা মেয়েদের বাড়িতে যেতেন তিনি। রাত বাড়লে সেই মেয়েদের ঘরে ঢুকে পরিচয় দিতেন, তিনি ওই যুবতীর ছোটবেলায় বিয়ে হওয়া স্বামী!

সাধারণত গাউনা রীতি মেনে ছোটবেলায় যেসব নারীর বিয়ে হয়েছিল, তাঁদের পক্ষে স্বামীর মুখ মনে রাখা সম্ভব নয়। আর সঙ্গে নেওয়া মিষ্টি-উপহার এবং বন্ধু-বান্ধবের আন্তরিক ব্যবহারের কারণে জিয়ারামকে বিশ্বাস করা ছাড়া তাঁদের আর কিছু করার উপায় থাকত না।

এদিকে উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া খাবারে ঘুমের ওষুধ মেশাতেন জিয়ারাম। এরপর ওই নারীদের সঙ্গে রাত কাটিয়ে গয়নাগাটি নিয়ে উধাও হয়ে যেতেন তিনি। সকালে উঠে এই বাড়ির লোকজন বুঝতে পারতেন, প্রতারকের পাল্লায় পড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে অধিকাংশ সময় অভিযোগ জানাতেন না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

এভাবেই অসংখ্য নারীর ‘সর্বনাশ’ করেছিলেন জিয়ারাম। অবশেষে ২০০৪ সালে ধরা পড়েন ‘জামাই রাজা’। বিচারে নয় বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর।

২০১৩ সালে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন ভালোই ছিলেন তিনি। কিন্তু পুরোনো নেশা কি এত সহজে ভোলা যায়। ২০১৫ সালে ৫৬ নম্বর ঘরে এসেছিলেন ওই একই ফাঁদ পেতে। কিন্তু এবার পুলিশ নজর রেখেছিল। আর চরের মাধ্যমে পুলিশ ‘জামাই রাজার’ কুকর্মের আগাম খবর পায়। আবার গ্রেপ্তার করা হয় জামাই রাজাকে।

যদিও কিছুদিন আগে তাঁকে ছেড়েও দিয়েছিল পুলিশ। শেষবার মুক্তি পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে জিয়ারাম জানিয়েছিলেন, এবার বিয়ে করে সংসারী হতে চান। কিন্তু সংসার করা তাঁর আর হয়নি। কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হননি এই প্রতারকের কাছে। অবশেষে ৫৪ বছর বয়সে গত সোমবার সিন্ধরির নিম্বলকোটে মারা যান তিনি।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁর শেষকৃত্যও করতে এগিয়ে আসেননি প্রতিবেশীরা। এতটাই ঘৃণা করতেন তাঁরা জিয়ারামকে। অবশেষে দায় নিলেন এলাকার পুলিশ কর্মীরাই। বিভিন্ন জায়গায় নিত্যনতুন প্রতারণার মাধ্যমে নাকে দড়ি দিয়ে এত দিন যাদের ঘুরিয়েছিল, তাঁদের হাতেই হলো শেষকৃত্য।