মেইন ম্যেনু

বিয়ে ভাঙলেও বাগদান অনুষ্ঠানের পুরো খরচ পাবে পাত্রীপক্ষ

এনগেজমেন্ট পার্টিতে আংটি বদল হয়ে যাওয়ার পর মেয়ের বিয়ে ভেঙে গিয়েছে? এবার আর মুষড়ে পড়বেন না পাত্রীর বাবা৷ কারণ এনগেজমেন্ট পার্টির সমস্ত খরচ দিতে বাধ্য হবে পাত্রপক্ষ৷ সম্প্রতি একটি মামলার রায়ে এমনই জানাল ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট৷

মামলাকারী থানের এক ব্যক্তি৷ ২০১২ সালে তাঁর মেয়ের সঙ্গে বাগদান হয়েছিল দিল্লির জমি ব্যবসায়ীর৷ রাজধানীতে বিপুল খরচ করে এনগেজমেন্ট পার্টি হয়৷ পাত্রর পরিবার, বন্ধুদের আপ্যায়নে কোনো খামতি রাখেননি ভদ্রলোক৷ পার্টির সব খরচই করেছিলেন তিনি৷ কিন্তু বাগদান পর্ব মিটে যাওয়ার পর ও বিয়ের কিছুদিন আগে বিয়ে ভেঙে দেয় ছেলেটির পরিবার৷ মেয়েটির ব্যাপারে কনের বাড়ির লোকজন অনেক কিছু গোপন করেছে, এই অভিযোগ তুলে বিয়ে বাতিল করা হয়৷

এনগেজমেন্ট পার্টিতে বিপুল খরচের পর পাত্রপক্ষ যদি বিয়ে ভেঙে দেয় তাহলে কনের বাবার মাথায় বাজ পড়াই স্বাভাবিক৷ বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তরুণীর বাবা৷ অপমান, খরচের ধাক্কা সামলে উঠে থানেতে পাত্র ও তার বাবার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন তিনি৷ থানের আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্তরা৷ বিষয়টি মিটিয়ে নিতে পাত্রপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন পাত্রীর বাবাকে এনগেজমেন্টের খরচ হিসাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে দেন৷

উল্টোদিকে পাত্রপক্ষ দাবি করে, এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানের জন্য তারাও সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করেছে৷ কিন্তু নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের কথায় কান না দিয়ে পাত্রীর বাবাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়৷ ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিলেও পাত্রীপক্ষ মামলা প্রত্যাহার করেনি৷ এরপর অভিযুক্তরা বোম্বে হাই কোর্টে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করে৷ কিন্তু হাই কোর্টও পাত্র ও পাত্রের বাবাকে প্রতারণা মামলা থেকে মুক্তি দিতে রাজি হয় না৷

শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি উঠলে অভিযুক্তদের আইনজীবী রানা মুখার্জি বিচারপতি জে এস খেহর ও অরুণ মিশ্রর বেঞ্চে শুনানির সময় বলেন, যেহেতু এনগেজমেন্টের খরচ মিটিয়ে দিয়েছে পাত্রপক্ষ তাই এই ঘটনায় তাদের আর প্রতারক বলা যাবে না৷ এরপরই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পাত্রপক্ষ বিয়ে ভেঙে দিলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাত্রীপক্ষকে বাগদান অনুষ্ঠানের খরচ দিতে হবে৷-সংবাদ প্রতিদিন