মেইন ম্যেনু

বুদ্ধিমত্তার চাইতে সঠিক আচরণ কেন বেশি জরুরী?

মাথা ভরা বুদ্ধি না থাকলে জীবনে সফল হওয়া যায় না- অন্তত সেটাই মনে করেন বেশীরভাগ মানুষ। কিন্তু সাফল্যের জন্য বুদ্ধির চাইতেও জরুরী হলো আপনার আচরণ।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পাওয়া যায় এই তথ্য। সাইকোলজিস্ট ক্যারল ডেক কর্মক্ষমতা এবং আচরণের মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন সারা জীবন। তার এই গবেষণা বলছে, আচরণ বা অ্যাটিচিউড থেকেই বোঝা যায় আপনি সফল হতে পারবেন কি না।

ক্যারল ডেক দেখেন, মানুষের মাঝে সাধারণত দুই ধরণের অ্যাটিচিউড দেখা যায়। একটি হলো ফিক্সড মাইন্ডসেট এবং অন্যটি হলো গ্রোথ মাইন্ডসেট।

যাদের ফিক্সড মাইন্ডসেট তৈরি হয়ে যায়, তারা বিশ্বাস করেন আপনি যেমন, তেমনটাই থাকবেন সারাজীবন এবং আপনার মাঝে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে। যেমন আপনার সামনে যখন বড় কোনো প্রতিকূলতা আসে তখন আপনি নিরাশ এবং অস্থির হয়ে যান। কারণ আপনার ধারণা এই সমস্যা থেকে উত্তরণ আপনার পক্ষে সম্ভব নয়।

গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষদের জন্য সমস্যা থেকে উত্তরণ সহজ। কারণ তারা বিশ্বাস করেন চেষ্টার সাথে সাথে তাদের উন্নতি সম্ভব। ফিক্সড মাইন্ডসেটের মানুষদের চাইতে তারা বেশি কর্মক্ষম। আই কিউ কম থাকলেও তারা সাফল্য বেশি পান। কারণ তারা চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যান না, বরং তাকে উন্নতির সুযোগ বলে মনে করেন।

অনেকে মনে করতে পারেন বুদ্ধিমত্তা বেশি থাকলে তা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু সেটাও আসলে আপনার আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর নির্ভর করে। জীবনের পথে বাধা আসলে তাকে আপনি কীভাবে সামলে নেন, তার ওপরেই অনেকটা নির্ভর করে সাফল্য। গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষেরা এই বাধাকে বাধা মনে করেন না, বরং সুযোগ মনে করেন। ব্যর্থ হলেও তারা মুষড়ে পড়েন না। বরং এর থেকে তথ্য নিয়ে সাফল্যের দিকে আরও অগ্রসর হতে চেষ্টা করেন।

আপনার মানসিকতা ফিক্সড মাইন্ডসেট বা গ্রোথ মাইন্ডসেট যেটাই হোক না কেন, কিছু ব্যাপার আছে যেগুলো আপনাকে গ্রোথ মাইন্ডসেট গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

১) অসহায় বোধ করবেন না
সবার জীবনেই এমন সময় আসে যখন আমরা অসহায় বোধ করি। কিন্তু এই অসহায়ত্বে ডুবে যাওয়া চলবে না। সফল মানুষের জীবনেও এমন মুহুর্ত এসেছে, কিন্তু এই হতাশা কাটিয়ে উঠেছেন বলেই তারা সফল। হতাশায় ডুবে গেলে আজ আর তাদের কাউকেই মনে রাখতো না পৃথিবী। গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষ হতাশায় ডুবে যান না কারণ তারা জানেন সফল হতে হলে ব্যর্থ হবার পরেও গা থেকে ধুলো ঝেড়ে কাজে লেগে যেতে হবে।

২) আবেগ রাখুন মনে
সফল মানুষেরা নিজেদের ভালোবাসার কাজের পিছনে লেগে থাকেন, ব্যর্থ হবার ভয়ে সেই কাজ থেকে সরে আসেন না। নিজেদের ভালোবাসার কাজেই উদ্যম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার কারণে তাদের হাতে ধরা দেয় সাফল্য।

৩) সামনে এগোন
জীবনে ব্যর্থ হবার ভয় সবারই আছে। গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষের মনেও ভয় আছে। কিন্তু এই ভয়ের সামনে হেরে যান না তারা। ভয় এবং দুশ্চিন্তার প্রভাব কাটাতে নতুন একটি পদপক্ষেপের জুড়ি নেই। তাই তারা সবসময় সামনে অগ্রসর হতে থাকেন। এভাবেই ভয়কে তারা শক্তিতে রূপান্তরিত করে ফেলেন।

৪) একটু বেশি চেষ্টা
প্রতিভা নয়, বরং পরিশ্রমেই বিশ্বাস করেন গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষ। এ কারণে নিজের সর্বশক্তি দিয়েই তারা চেষ্টা করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনই একটু বেশি করে চেষ্টা করতে হবে, একটু একটু করে বাড়াতে হবে নিজেরই সীমা। তবেই আসবে সাফল্য।

৫) মনে আশা রাখুন
আপনি যদি কাজ শুরু করার আগেই ভেবে বসে থাকেন আপনাকে দিয়ে তা হবে না, তাহলে সাফল্য আসবে কী করে? গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষেরা জানেন যে জীবনে ব্যর্থতা আসবেই। তারমানে এই নয় যে সাফল্যের আশা করা যাবে না। এই আত্মবিশ্বাসেই জয় হয় তাদের।

৬) নমনীয় থাকুন
জীবনে বাধা-বিপত্তি আসবে, সারাজীবন নিশ্চিন্তে যাবে না। এটা মেনে নিয়েই জীবনে চলতে হবে সবকিছুর মধ্য দিয়েই। এগুলোর সাথে মানিয়ে নাবার জন্য তাই আপনাকেও থাকতে হবে যথেষ্ট নমনীয়। সমস্যার সময়ে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না।

৭) ব্যর্থ হলে অভিযোগ করবেন না
কেউ যদি ব্যর্থতা নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ করতে থাকে তবে বুঝতে হবে তিনি ফিক্সড মাইন্ডসেটের মানুষ। গ্রোথ মাইন্ডসেটের মানুষ সবকিছুর মাঝেই সাফল্যের সুযোগ খোঁজেন, ব্যর্থতা থেকে নেন অনুপ্রেরণা। তাই তার জীবনে অভিযোগের কোনো স্থান নেই।

৮) ছোট ছোট ব্যাপারগুলোকেই লক্ষ্য করুন
নিজের এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোকে ঠিক রাখতে পারলে গ্রোথ মাইন্ডসেট বজায় রাখতে আপনার কোনো সমস্যা হবে না।

মূল: Why attitude is more important than IQ, Business Insider