মেইন ম্যেনু

বৃষ্টির আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী অনিক এখন বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি

আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হিসাবে থানায় দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি মজিবুর রহমান অনিক এখন রাজধানীর বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। আগের কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রেমিকা ও কলেজ শাখা সংগঠনের নেত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির সঙ্গে ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ মাহমুদের অবৈধ সম্পর্কের জেরে সভাপতির পক্ষ নিয়ে প্রেমিকা ও তার বাবাকে বকাঝকা করার জন্য অনিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত ছিল না।

শেষ পর্যন্ত গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি আদায় করতে না পেরে অনিকদের বাধা বিপত্তির মুখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ফাতেমাতুজ জোহরা। গত মাসে এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখিও হয়। গত সোমবার মিরপুর বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠিত হয়। আর এতেই অনিককে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।

বৃষ্টির ‘আত্মহত্যা প্ররোচনার’ অভিযোগে কাফরুল থানায় বৃষ্টির বাবার দায়ের করা মামলার এজাহারের দুই নম্বর আসামি অনিক। তাকে বাংলা কলেজের সভাপতি করায় নিহতের পরিবার ও বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ ক্ষোভ প্রকাশ করে। মৃতের পরিবার ‘হত্যাকারীদের’ এভাবে পুরস্কৃত করায় ছাত্রলীগের কড়া সমালোচনা করেছে।

সোমবার ছাত্রলীগের অফিসিয়াল প্যাডে সংগঠনের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি সভাপতি এইচ এম জাহিদ মাহমুদকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটিতে মজিবুর রহমান অনিককে সভাপতি করা হয়েছে। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয় সোলায়মান মিয়া জীবনকে।

মিরপুর বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও কাফরুল থানা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির সঙ্গে সভাপতি জাহিদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বৃষ্টি। পরে তিনি জাহিদকে বিয়ের জন চাপ দিতে থাকেন। জাহিদ এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৩ জুন ১৩২০/১ শেওড়াপাড়ার বাসায় বৃষ্টি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে উদ্ধার করে মিরপুরের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জুন তিনি মারা যান।

এরপর বৃষ্টির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদকে প্রধান ও মজিবুর রহমান অনিককে দুই নম্বর আসামি করে সাত জনের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- জাহিদ মুন্সি, মো. আলমগীর হোসেন, এ আজিজ তানভীর, শাকিল আহমেদ ও চঞ্চল।

১৯ জুন জাহিদকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা পুলিশ। তিনি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। অনিকসহ অপর আসামিরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছেন তারা পলাতক। ঘটনার একমাস যেতে না যেতেই অনিককে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি করা হল।

অনিককে সভাপতি ঘোষণা করায় বৃষ্টির মামা জুয়েল রানা বলেন, ‘ছাত্রলীগের একজন নেত্রী ছিল বৃষ্টি। কিন্তু তার অপমান ও মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের ছাত্রলীগ পুরস্কৃত করে বিচারের মুখ বন্ধ করে দিল। ছাত্রলীগের যখন বৃষ্টির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা তখন তারা হত্যাকারীকে পুরস্কৃত করল। আমরা এর নিন্দা জানাই।’

তবে এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ক উপসম্পাদক জয়দেব দাস বলেন, ‘আপনারা বলছেন সে অভিযুক্ত, কিন্তু অভিযোগতো প্রমাণিত নয়। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলেই হয় না। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।’

বৃষ্টির মামা বলেন, ‘আসামি অনিক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। ঘটনার একমাস পার হয়ে গেলেও মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।’

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খন্দকার মনিরুজ্জামানের বলেন, ‘বাদীর কোনো ‘ইন্টারেস্ট’ নেই, আপনাদের আপনাদের এত ইন্টারেস্ট কিসের? বাদীতো আমাদের সাহায্য করছে না। তাকেইতো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতের লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বিষয়টা জানা যাবে। গত ৯ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তদন্তে আরো গতি আসবে।’

আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসামি সব পলাতক। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ অথচ বৃষ্টির মামা জুয়েল দাবি করেছেন, ‘অনিক সব সময় বাংলা কলেজে থাকেন। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে পায় না।’

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ আত্মহত্যার আগে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জাহিদ ও অনিকের বিরুদ্ধে বিচার দিয়েছিল। কিন্তু তার বিচারে কেউ সারা দেয়নি। সন্তানের স্বীকৃতি না পাবার অসম্মানে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ

অনাগত সন্তানের স্বীকৃতির জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন ছাত্রলীগ নেত্রী বৃষ্টি