মেইন ম্যেনু

বৃষ্টির জন্য তৈরী করা হচ্ছে কৃত্রিম পর্বত!

বৃষ্টির হার বাড়াতে পাহাড় তৈরি করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশ কোনো কারণে পর্বত বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে বাতাসের বেগ তৈরি করে মেঘের সৃষ্টি এবং সেই মেঘের কারণে বৃষ্টি হবে এমনটা আশা করেই তৈরি করা হচ্ছে এই মনুষ্যনির্মিত পর্বত। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্লাউড সিডিং।

বিজ্ঞানীদের মতে, ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে আবহাওয়াকে এমনভাবে অদলবদল করা হয় যাতে নির্দিষ্ট পরিমানই মেঘ তৈরি হয় আকাশে। আর সেই মেঘে বায়ু চালনার মাধ্যমে সংঘর্ষ ঘটিয়ে বৃষ্টি নামানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অ্যাটমোসফেরিক রিসার্চের(এনসিএআর) গবেষকরা এই প্রকল্পের পেছনে কাজ করছেন। শুরুর দিকে এই প্রকল্পটি দুবাইয়ে গোপন রাখা হয়েছিল, কিন্তু পর্বত নির্মানের স্থান নির্বাচন হওয়ার পর দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প সম্পর্কে জানানো হয়।

মার্কিন গবেষকরা এই ক্লাউড সিডিং প্রক্রিয়ার জন্য এমন একটি স্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন যেখানে ওই পর্বত নির্মান করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি, পর্বতটি কতটুকু উচ্চতাসম্পন্ন হবে এবং এর ব্যাপ্তিই বা কতটুকু হবে। এনসিএআর’র একজন গবেষক রলফ ব্রুইঞ্জেস অ্যারাবিয়ান বিসনেসকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, ‘একটি পর্বত তৈরি করা খুব সহজ কাজ নয়। আমরা এখনও এর আত্তীকরণ বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারিনি। আর এই কারণেই আমরা বিভিন্ন উচ্চতা, ব্যাস এবং অবস্থানের কথা এখনও ভাবছি। স্থানীয় আবহাওয়াকে মাথায় রেখে খুব সতর্কতার সঙ্গে আমাদের এটা তৈরি করতে হবে।’

‘স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্প অনেক ব্যায়বহুল হবে নিঃসন্দেহে। তবে শেষমেষ যদি এই প্রকল্প ব্যয় সঙ্কুলান সম্ভব না হয় সেজন্যও আমাদের তরফ থেকে কিছু ভিন্ন পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে। কারণ এটা এমন কোনো স্বল্প মেয়াদকালীন বিষয় নয়। পুরো প্রকল্পটি একটি দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা মাথায় রেখে করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম অংশ হয়ে যাবার পর দ্বিতীয় অংশের কাজ শুরু হবে।’ বলছিলেন রলফ।

এখন কথা হলো, যদি মানবনির্মিত পর্বত সফলভাবেই মেঘ উৎপাদনে সক্ষম হয় এবং বৃষ্টি নামায় তাহলে বিশ্বে মরুপ্রবণ অঞ্চলের জন্য এটা মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিশ্বে তখন সিলভার আয়োডিনের ব্যবহার বাড়বে। কারণ বিমানে করে মেঘের মধ্যে এই পদার্থ ছড়িয়ে দিলেই বৃষ্টি ঝড়বে।