মেইন ম্যেনু

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাসের টিকিটের প্রতীক্ষা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সোমবার থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ফজরের নামাজ শেষেই ঘরমুখো মানুষ কাঙ্খিত টিকিট পেতে জড়ো হয়েছেন কাউন্টারগুলোতে।

গাবতলী ও কল্যাণপুরসহ এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি উপক্ষা করে অনেক যাত্রীই সকাল থেকে কাউন্টারগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। বাসের আগাম টিকিট বিক্রির জন্য কাউন্টারগুলোর সামনে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে।

কিছুটা বৈরি আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের দুর্ভোগের সম্মুক্ষীন হতে হলেও কাঙ্খিত টিকিট পাওয়ার পর হাসিমুখেই ফিরে যেতে দেখা গেছে। হানিফ, আগমনি, নাবিল, শ্যামলী, দেশ ট্রাভেলস পরিবহনগুলোর কাউন্টারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

পরিবহনগুলোর কাউন্টার থেকে জানা যায়, ট্রেনের মতো বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট বিক্রি করে না বাস। তাই মূলত আগে আসলে আগে পাবেন এ ভিত্তিতেই বিক্রি হচ্ছে বাসের টিকিট।

২৩ জুন রাজশাহী যাওয়ার টিকিট কেটেছেন শিক্ষক মানোয়ার জামান। কাঙ্খিত টিকিট হাতে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, নাড়ির টানে প্রতি ঈদেই গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করি। কষ্ট হলেও প্রথম দিন টিকিট নিশ্চিত করতে পারলে মোটামুটি নিশ্চিন্তে বাকী কাজগুলো করা যায়।

তিনি বলেন সকাল ৬টায় টিকিটের জন্য এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ৮টা ৫৫ মিনিটে কাঙ্খিত টিকিট হাতে পেয়েছি। নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কিনতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে নাবিল পরিবহনের কাউন্টারে কর্মরত নয়ন গাজী বলেন, সকাল ৬টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। বিকেল ৬টায় শেষ হবে। আগাম টিকিট বিক্রির আজ প্রথম দিন হওয়ায় ক্রেতাদের চাপ রয়েছে।

গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে মূলত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর টিকিট বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে উত্তরবঙ্গ ছাড়াও দেশের প্রায় সবকটি বিভাগে যাওয়ার পরিবহন সুবিধা রয়েছে এখান থেকে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শ্যামলী পরিবহনের এমডি রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আজ থেকে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের আন্তঃজেলা বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে যে পরিবহনের গাড়ির সংখ্যা কম তারা ঈদের চার পাঁচদিন আগে টিকিট বিক্রি শুরু করবে।

বেশ কয়েকটি কাউন্টারে আগাম টিকিট বিক্রির জন্য আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল ছয়টা থেকে বিকাল ছয়টা পর্যন্ত এসব কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে।। গাবতলী ও সায়েদাবাস বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুর, আসাদগেট, আরামবাগ ও মৌচাকে অবস্থিত বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাসের কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে।

রমেশ চন্দ্র আরো বলেন, কোনোভাবেই ঈদ উপলক্ষে পরিবহনের ভাড়া বাড়বে না। এখন তো অনেক পরিবহন অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছেন। ফলে টিকিট প্রাপ্তিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ঈদযাত্রা হিসেবে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫০ বাস চালু রাখবে বলে জানা গেছে। ২০ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকায় বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোতে এসব বাসের আগাম টিকিট পাওয়া যাবে।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, আরো কিছু বাস আপৎকালীন সেবা দিতে বিভিন্ন ডিপোতে সংরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে মিরপুর ডিপো, নন্দন পার্কের সামনে, কল্যাণপুর ডিপো, মতিঝিল ডিপোতে পাঁচটি করে এবং মোহাম্মদপুর ডিপোতে দুটি বাস সংরক্ষিত থাকবে। এসব বাসের বেশিরভাগই দ্বিতল বাস।






মন্তব্য চালু নেই