মেইন ম্যেনু

‘বৃহন্নলা’র পুরস্কার বাতিল, নির্মাতার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির পর থেকেই ‘বৃহন্নলা’ ছবিটির বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত নকলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ‘বৃহন্নলা’ ছবি সংশ্লিষ্ট পুরস্কার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কর্তৃপক্ষ।

শুধু পুরস্কার বাতিল করা–ই নয়, পরিচালক মুরাদ পারভেজের বিরুদ্ধেও নাকি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেই জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

রোববার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা জানান। ‘বৃহন্নলা’ ছবিটির বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সেরা চলচ্চিত্র, সেরা কাহিনিকার ও সেরা সংলাপ রচয়িতা বিভাগে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত সব পুরস্কারই বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, সরকারি অনুদানে নির্মিত মুরাদ পারভেজের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ‘বৃহন্নলা’র মূল কাহিনি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ছোটগল্প ‘গাছটি বলেছিল’ থেকে নেওয়া। কিন্তু ছবিতে মুরাদ পারভেজ কাহিনিকার হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করেছেন। পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলে নানা সমালোচনা।

‘বৃহন্নলা’ ছবির পুরস্কার বাতিল করায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাসুদ পথিকের ‘নেক্কাবরের মহাপ্রয়াণ’ হতে যাচ্ছে সেরা চলচ্চিত্র। আর ‘মেঘমল্লার’ ছবির জন্য সেরা কাহিনিকার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং একই ছবির জন্য জাহিদুর রহিম অঞ্জন পেতে যাচ্ছেন সেরা সংলাপ রচয়িতা পুরস্কার।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে বাকি সব ঘোষিত পুরস্কার আগের মতোই থাকছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৌলিক গল্পের ছবিকেই দেওয়া হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘বৃহন্নলা’ ছবির ক্ষেত্রে মুরাদ পারভেজ আরেকজনের গল্প নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, যা জালিয়াতি। এর জন্য তাঁকে শাস্তি পেতে হবে। সরকারি অনুদান নিয়ে এমন কাজ করা গর্হিত অপরাধ।