মেইন ম্যেনু

বেঁধে দেয়া সময় শেষ হচ্ছে কাল, তবুও সরছে না ট্যানারি

চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা (ট্যানারি) হাজারিবাগ থেকে সাভার স্থানান্তরে সরকারের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হচ্ছে কাল (রোববার)। আদালতের নির্দেশনার পর গত দু’বছরে এ স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের। সর্বশেষ দিনক্ষণ বেধে দেয়া হয় ১০ এপ্রিল।

সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন আগে শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে স্থানান্তরে কোন ধরনের প্রস্তুতি নেই ট্যানারি মালিকদের। ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা, ট্যানারি মালিকদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামি জুলাইয়ের আগে সাভারে যেতে আগ্রহি নন তারা।
নানা অসুবিধার কথা জানিয়ে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, এ বছরের কোরবানির ঈদের আগে সাভারে ট্যানারি শিল্পনগরীতে পুনরোদ্দমে কাজ শুরু হবে।

ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করে কাজ না হওয়ায় ৩১ মার্চ সময় বেধে দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। একই সঙ্গে ঘোষণা দেন, ট্যানারির প্রধান উপকরণ কাঁচা চামড়া হাজারিবাগে ১ এপ্রিল থেকে ঢুকতে দেয়া হবে না। ঘোষণা অনুয়ায়ী, পরদিন সকাল থেকে হাজারিবাগের সব পথে পুলিশ প্রহরাও বসানো হয়। পরদিন (২ এপ্রিল) ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন শিল্পমন্ত্রী।

ট্যানারি মালিকদের অনুরোধে স্থানান্তরে নতুন করে আরও ১০ দিন সময় বাড়িয়ে করা হয় ১০ এপ্রিল।
সময় বাড়ানোর পর থেকে গত ক’দিনে চারটি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে আবেদন করেছে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বের জন্য ট্যানারি মালিকরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দোষারোপ করছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাভারে ট্যানারি শিল্প নগরীতে সব অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ তাদের স্থানান্তর প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, ‘সাভারে ৬০টি ট্যানারি তাদের অবকাঠমো নির্মাণ করেছে। এসব ভবনে চার তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকী। এছাড়া সেখানে চামড়া ডাম্পিংয়ের স্থান এখনও ব্যবহার উপযোগী হয়নি। কেবলমাত্র পাইলিং হয়েছে। এসব কাজ শেষ করে জুন-জুলাইয়ের আগে হাজারিবাগের ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর সম্ভব হবে না।’

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘সরকারের এ মহৎ উদ্যোগে সাড়া দিতে আগামী কোরবানি ঈদের আগেই সেখানে ট্যানারি স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

সাভার চামড়াশিল্প নগরীর প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘ট্যানারি স্থানান্তরে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবুও ট্যানারি মালিকরা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। শতভাগ প্রস্তুত থাকার পরেও যদি ট্যানারি মালিকরা না আসে তাহলে আমরা কি করবো?’

প্রকল্পের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচালক বলেন, ‘সিইটিপি (সেন্ট্রাল ইফলেন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের দু’টি মডিউলের কাজ ১০০ ভাগ শেষ হয়েছে। এখন বর্জ্য পেলেই তা শোধন করা সম্ভব। এর একটি মডিউল চালু করতে এখন শুধু বর্জ্য দরকার। ট্যানারি না আসায় এটি চালু করা যাচ্ছে না। আমাদের দিক থেকে যে সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে তা অল্প দিনেই শেষ হবে। তাই ট্যানারির কাজ শুরু করা যাবে না এটি একেবারেই অবাস্তব এবং অযৌক্তিক।’

প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম আরও বলেন, ‘এখানে ট্যানারি স্থাপনে গ্যাস বিদ্যুৎ কোনো সমস্যা নয়। যারা আবেদন করছেন, তাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ২০ দিন আগে রিলায়েন্স ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। তারা চামড়া প্রক্রিয়ার কাজও শুরু করতে যাচ্ছে। অন্যরা এখনও কেন আসতে পারছে না তারাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘৬২টি ট্যানারি মালিক গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। তিতাসের পক্ষ থেকে ১২/১৩টি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়েছে আবেদনকারীদের। তারা এখনও তা করেনি। বিদ্যুতের জন্য ১৩৮টি কোম্পানি আবেদন করেছে। এর মধ্যে ৮৭ কারাখানা ডিমান্ড নোট পেয়েছে। এদের ৮ জন টাকা জমা দিয়েছে।

তবে যারা ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েও জমির প্লট খালি ফেলে রেখেছেন। তারা কাজ শুরু না করলে অচিরেই তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলেও জানান এ প্রকল্প পরিচালক।

এদিকে, পরিবেশবিদ সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে আমরা ১৫ বছর আন্দোলন করছি। এখন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে পাশের বংশী নদী যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সরকারকেই।’

মালিকদের আগ্রহের অভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিকতায় ঘাটতি থাকায় ট্যানারি স্থানান্তরের এই সমস্যার জট তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন বাপার এ সহ-সভাপতি।

বংশী নদী দূষণের দিক তুলে ধরলে বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াতউল্লাহ বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সিইটিপি নির্মাণ হচ্ছে। এতে নদী ওপরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।’ বাংলামেইল