মেইন ম্যেনু

বেইজিংয়ে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ

ধূমপান রোধে কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে চীনা সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার থেকে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে জনসম্মুখে ধূমপান নিষিদ্ধের নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

নতুন আইন অনুযায়ী, বেইজিংয়ের রেস্তোরাঁ, অফিস, গণপরিবহনসহ সকল পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের কাছেও ধূমপান করা যাবে না। কেউ এ নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তিস্বরূপ ৩২ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় আড়াই হাজার টাকা) জরিমানা গুনতে হবে।

এর আগেও অবশ্য শহরটিতে প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে জরিমানার বিধান ছিল। তবে তা কালেভদ্রে কার্যকর করা হতো। জরিমানার অর্থের অঙ্কটাও তেমন আহামরি ছিল না, মাত্র ১ দশমিক ৬০ ডলার (১২৫ টাকা প্রায়)! ২০১১ সালের ওই আইনটি ধূমপান রোধে তেমন কার্যকর না হওয়ায় নতুন আইন কার্যকর করা হচ্ছে।

নতুন আইনে শুধু জরিমানাই করা হবে না, তিনবার কেউ এ নিয়ম ভঙ্গ করলে লজ্জায়ও পড়তে হবে। সরকারি ওয়েবসাইটে তিনবার নিয়ম ভঙ্গকারীর নাম উল্লেখ করে ভৎর্সনা করা হবে।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব স্থানে ধূমপায়ীদের ধূমপান থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হন তাহলে তাদের ১ হাজার ৬০০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনগুলোর ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো সিগারেটের দোকানের অনুমোদন দেবে না সরকার।

নতুন আইন কার্যকরে অন্তত ১৩০০ পরিদর্শক কাজ করবে। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবেন।

চীনের অনেক শহরেই জনসম্মুখে ধূমপান নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হলেও তা অতটা কার্যকর হয়নি। তাই এবার আইন কার্যকরে কঠোর হতে পারে প্রশাসন। দেশটির সংসদে গত মাসে গণমাধ্যম, পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

চীনে ধূমপায়ীর পরিমাণ ৩০ কোটিরও বেশি। দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে ধূমপানজনিত রোগে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি লোক মারা যায়।

রাজধানী বেইজিংয়ে ধূমপায়ীর পরিমাণ প্রায় ৪২ লাখ। গত বছর বেইজিং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, শহরটিতে ১৫ বছর এবং এর উপরে বয়সীদের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তারা প্রতিদিন গতে সাড়ে ১৪টি করে সিগারেট টেনে থাকে।