মেইন ম্যেনু

বেতন পাচ্ছে না আইএস জঙ্গিরা

আর্থিক অস্বচ্ছলতায় ভুগছে দুনিয়া কাঁপানো জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মিত্র রাষ্ট্রগুলোর চলমান হামলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে সংগঠনটির আর্থিক উৎসগুলো। এই আর্থিক টানাপোড়ন এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে সংগঠনের সদস্যদের বেতন কমিয়ে আনা হয়েছে অর্ধেকেরও নিচে।

ইরাক এবং সিরিয়া ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যের এই সংগঠনটির অর্থের মূল উৎস তেল সম্পদ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশিরভাগ তেলের খনি। এ কারণে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের বেতন কমিয়ে আনা হয়েছে অর্ধেকেরও নিচে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পদের উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এই মুহূর্তে দারুণ আর্থিক সংকটে পড়েছে আইএস। তেলের খনি এবং শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক এবং যেসব স্থানে আইএসের অর্থের মজুদ থাকতো, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

আর্থিক সংকটের কারণে আইএস জঙ্গিদের বেতন ঠিকমতো পরিশোধ করা হচ্ছে না। অনেক বিভাগের জঙ্গিদের একেবারেই বেতন দেয়া হচ্ছে না। কিছু কিছু বিভাগে অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো চার্লেস লিস্টার বলেন, ‘বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে সংগঠনটির নৈতিকতায় আঘাত করেছে। এছাড়া সংগঠনটির সঙ্গে বর্হিবিশে^র যোগাযোগ কমছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে আর্থিক টানাপোড়ন ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। কারণ আর্থিক টোপ দিয়ে সদস্য সংগ্রহ এদের জঙ্গি তৈরির অন্যতম কৌশল। কিন্তু বেতন কমানোর এই সিদ্ধান্তে জঙ্গিদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পেশায় প্রকৌশলী ইরাকের নাগরিক আবু সারা বলেন (৩৩), এরই মধ্যে আইএসের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হয়তো তারা কেউ বেতন পাচ্ছে না, নতুবা চুক্তির চেয়ে অনেক কম পাচ্ছে। এমনকি অনেক যোদ্ধা যুদ্ধ ক্ষেত্রে অস্ত্র ফেলে চলে গেছে। তারা সাধারন মানুষের মত জীবন-যাপন করছে।’

এছাড়া আইএসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোন কোন স্থান হাতছাড়া হয়ে যাওয়াতেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি সিরিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরোনো শহর পালমিরা পুনর্দখল করে দেশটির সরকারি বাহিনী। এছাড়া ইরাকের মসুলও শহরও পুনর্দখলে নেয় সরকারি বাহিনী। এখানে শক্ত ঘাঁটি গেড়েছিল আইএস।

আর্থিক টানাপোড়নে থাকলেও পরিস্থিতি এতোটাই দুর্বল নয় যে, যেকোন সময়ে বিলীন হয়ে যাবে আইএস। ইরাকি সেনাবাহিনীর কৌশল প্রণেতা হিসাম আল-হাসিমি বলেন, ইরাক এবং সিরিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তেল সম্পদ এখনো আইএসের নিয়ন্ত্রণে। সিরিয়ার ৬০ শতাংশ এবং ইরাকের ৫ শতাংশ তেল সম্পদ জঙ্গিগোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে। তবে এভাবে চলতে থাকলে সংগঠনটি আসলে ধ্বংসের পথেই যাচ্ছে।’