মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে ছাত্রদল তাড়াতে হলে ছাত্রলীগের হানা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাতের অন্ধকারে আবাসিক হল থেকে বের করে দিতে হানা দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শনিবার দিবাগত রাত ১ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শহীদ মুক্তার ইলাহী হলে এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও শিবির সন্দেহে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাফিউর রহমান নামের ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই শিক্ষাথীকে রবিবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এরশাদ আলী ।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের প্রকাশ্যে কর্মকান্ড সবাইকে ব্যাপক ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি ছাত্রশিবির কর্তৃক পোস্টার লাগানোও হয়। গত শুক্রবার ছাত্রদল ব্যানারসহ একটি ঝটিকা মিছিলের ছবি সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হয়। শনিবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের বেশকয়েকজন নেতাকর্মী দুই হলে সন্দেহভাজন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মীদের হল থেকে বের করে দেয়। এসময় অনেককে মারধরও করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। মারধরে কামরুল হাসান, শুভ নামের দুইজন শিক্ষার্থী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ বলেন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের বেশকিছু কর্মী শনিবার রাতে শ্লোগান দিয়ে হলে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয় এবং হল থেকে বের করে দেয়। এ সময় শিবিরের একজনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১টার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে ছাত্রলীগ তালা লাগিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের খুঁজতে থাকে এবং অধিকাংশ রুমেই রড দিয়ে আঘাত করে। ফলে হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে ছুটাছুটি করে এবং মার খেয়ে চিৎকার শুরু করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীদের হাতে হেনস্থা হন।কাউকে কাউকে বেধড়ক পেটানো হয় বলে জানা যায়। রাত ২ টার পর ছেলেদের অপর শহীদ মুখতার হলে প্রবেশ করে হল গেটে তালিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে সেখানেও অভিযান চলতে থাকে তাদের। এমনকি এ সময় হলের নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক রেখে হলে আতংক সৃষ্টি করা হয়। তাদের এ অভিযানে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয় বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান।এমনকি বেশ কিছু কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানা গেছে।

আজ বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট বডি বিষয়টি সম্পর্কে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন হলটির প্রভোস্ট কমলেশ চন্দ্র রায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এরশাদ আলী বলেন, শিবির সন্দেহে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একজনকে কোতয়ালী থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আটককৃত শিক্ষার্থীর আজ ৩য় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তাকে থানায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।