মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে ছাত্রদের দুটি হলে সীট আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি)ছাত্রদের জন্য নির্মিত দুটি হলে আবাসিকতার জন্য পৃথক পৃথক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সীট আবেদন ফরম উত্তোলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে গত ১৬ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট ।নবনির্মিত শহীদ মুখতার ইলাহী হল এ আসন বরাদ্দের জন্য আবেদন ফরম উত্তোলনের জন্য ২৩ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট ২০১৫ইং পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান অফিসগুলোতে এ সম্পর্কিত নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে গত ১৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হলটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) শহীদ মুখতার ইলাহী হলটির প্রভোস্ট(চলতি দায়িত্ব) এবং একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো: আমির শরীফ এক মূঠোফোনে এ তথ্য জানান।পূর্বের ন্যায় এবারও ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।

যারা ইতোপূর্বে হলে সীট গ্রহণের জন্য(অস্থায়ী জনতা ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ৫০ টাকা ফরম মূল্যে) আবেদন করেছে তাদেরকে নতুন করে করতে হবে না। বঙ্গবন্ধু হলের জন্য আবেদন করে থাকলেও জোড় নম্বরধারিদের অটোমেটিকেলি শহীদ মুখতার ইলাহী হলে স্থানান্তর করা হবে।তবে তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক সত্যায়িত সর্বশেষ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার নম্বরপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সত্যায়িত সর্বশেষ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার নম্বরপত্রের উপর নিজের নাম, আইডি লিখে জনতা ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী শাখায়(যেখানে আবেদন ফরম জমা নেওয়া হচ্ছে)নির্ধারিত তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে.।

হলের সীট আবেদনের জন্য ছাত্রদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনার জন্য বলা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১.বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি ২.স্নাতক ১ম বর্ষের রেজি: কার্ডের ফটোকপি ৩.এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ৪.স্নাতক এর প্রাপ্ত সবশেষ পরীক্ষার নম্বরপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ৫.জাতীয়তা/নাগরিকত্ব সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ৬. পাসপোর্ট ও স্ট্যাম্প আকারের সদ্য তোলা ১ কপি করে ছবি(ফরমের নির্ধারিত স্থানে লাগাতে হবে)।৭.ব্যাংকে টাকা জমা দানের রশিদ(ফরমের সাথে জমার অংশ)।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলটির কাজ শেষ হয়। গত কয়েকবার হলটি খুলে দেওয়ার জন্য ফরম উত্তোলন সহ সাক্ষাৎকার এর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।কিন্তু বেশ কিছু কারনে তা সম্ভব হয়নি।সবশেষ গত বছর আবেদন ফরম পূরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের অজুহাতে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়।এরপর গত আগস্ট মাসের দিকে হলের বেশ কিছু অ্যাকুইপমেন্ট (প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ) খোয়া যায়।

দীর্ঘদিন হল খুলে না দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ,মানববন্ধন-আন্দোলন করেছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন যেমন প্রগতিশীল ছাত্রজোট,সমন্বিত অধিকার পরিষদ সহ অনেকেই।এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগও তৎপর হয়েছিল।

সবশেষ ১০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এর প্রভোস্ট এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্তক্রমে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলটি চালুর ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে সময়সীমা বেঁধে একটি পত্র দেওয়া হয়।

পত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ১২/৮/১৫ তারিখের মধ্যে হলটিতে সংযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রকাশ করতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করতে হবে। ২৫/৮ তারিখের মধ্যে ফিটিংস পুনঃস্থাপন করে হলটিকে বাসযোগ্য করতে হবে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর প্রতিকৃতি স্থাপন করতে হবে ।

উল্লেখ্য হল নির্মাণের প্রায় ৩ বছর হলেও সাবেক ও বর্তমান উপাচার্য হল চালূ করতে টালবাহানা করছেন। ৩ দফায় হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট পরিবর্তিত হয়েছে, তাঁরা দায়িত্ব ভাতা ও মোবাইল বিল গ্রহণ করেছেন এবং করছেন কিন্তু শিক্ষার্থীদের হলে ওঠা হয়নি।