মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রাজ ও সাধারণ সম্পাদক তিতাস চন্দ্র রায়সহ ছয়জন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সর্দার পাড়ার জননীমহল ছাত্রাবাসে এই ঘটনা ঘটে।

আহত অন্যান্য নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা হাদিউজ্জামান হাদি, ছাত্রলীগ কর্মী পমেল বড়য়া, আদনান, শামীমসহ ৬ নেতাকর্মী। এদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী রাজ এবং তিতাস চন্দ্র রায়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিশের নের্তৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল সর্দারপাড়া জননী মহল ছাত্রাবাসে ঢুকে ।তারা মোহাম্মদ আলী রাজ, তিতাস চন্দ্র রায় ও তাঁদের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অতর্কিত হামলা করে এবং ছাত্রাবাসে ভাংচুর চালায়।’

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রাজ অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিরের দলের কর্মী শুভ এবং তাঁর বন্ধুরা। আমরা এঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার শুভকে শাসন করি এবং মেয়েটিকে উত্যক্ত করতে নিষেধ করি। এ ঘটনার জের ধরে বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের নির্দেশেই বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।”

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হাসান নারী উত্যক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা হাদিউজ্জামান হাদি শুভর কাছে চাঁদা দাবি করলে শুভ এবং তাঁর বন্ধুরা এর প্রতিবাদ করে।’পরে এর জের ধরে ঘটনাটি ঘটে।

এ বিষয়ে জানার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর শাহীনুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং(সিএসই) বিভাগের একজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করায় পরিসংখ্যান বিভাগের শুভ’র (৫ম ব্যাচ) বিরুদ্ধে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রীটি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে শুভকে বিকাল ৫টার মধ্যে সোমবার প্রক্টর অফিসে ডাকা হলে সে আসেনি।’ এরপর সন্ধ্যায় হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে আমরা জানতে পারি। এবিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এস আই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।’ তিনি আরো জানাান এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা করাসহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময়মত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।