মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে বিতর্কিত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নির্বাহী প্রকৌশলী পদে স্হায়ী নিযোগ পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে বহিস্কৃত সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় নজিরবিহীন গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নুর উন নবীর সভাপতিত্বে তাঁর বাসভবনে বাছাই বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। সাজানো প্রার্থী দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ দুপুর ১২টার সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় ।

এর আগে দুই দফা এই নিয়োগ বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করলেও শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে উপাচার্য পিছু হঠতে বাধ্য হন। এর জের ধরে একজন প্রবীণ শিক্ষককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমান উপাচার্য ইউজিসি অনুমোদিত উপ-প্রধান প্রকৌশলীর পদ পূরণ না করে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে ১৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে ‘উপ-প্রধান প্রকৌশলী পদের বিপরীতে নির্বাহী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই পদের আবেদনপত্রে জাহাঙ্গীর আলম অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন ২১ জুলাই ২০০৯ তারিখ পর্যন্ত রুয়েটে চাকরি করেছেন কিন্তু আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত অভিজ্ঞতার সনদটি ২৯ জুলাই ২০০৮ তারিখে স্বাক্ষরিত এবং রুয়েট থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে কোন ছাড়পত্রও সংযুক্ত করতে পারেননি। বিষয়টি উল্লেখ করে আবেদনপত্র যাছাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ড. আরএম হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ২৮ আগস্ট ২০১৫ তারিখে জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনটি বাতিল করে রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠিয়ে দেয় ।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আর এম হাফিজুর রহমান বলেন,‘ বিতর্কিত ও অযোগ্য এ প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে উপাচার্য কেন উঠেপড়ে লেগেছেন তা আমরা জানি না। তিনি বলেন, সামনে ভর্তি পরীক্ষা। তাই ক্যাম্পাসে কোনো আন্দোলন করে উত্তপ্ত করতে চাই না। উপাচার্য এ নিয়োগ থেকে সরে না আসলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) লিখিতভাবে অভিযোগ জানাব। এরপর এ নিয়োগ বাতিল না করলে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ আন্দোলন কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা দায়।

সভাপতি আরো বলেন, রুয়েট থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম কীভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। উপাচার্য যদি নিজ ইচ্ছায় অযোগ্য এ প্রার্থীকে নিয়োগ দেন তবে আমরা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করব বলেও হুশিয়ারি দেন এক শিক্ষক নেতা।

গত ১৪ অক্টোবর ঐ পদে নিয়োগের জন্য পুন:বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে পূর্বের আবেদনকারীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই উল্লেখ ছিল। ফলে জাহাঙ্গীর আলমের বাতিল আবেদন বিবেচনায় নিয়ে বা অভিজ্ঞতার সনদের ত্রুটি সংশোধনের কোন সুযোগ ছিল না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা ।

২০০৯ সালের ২২ জুলাই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে এই অস্থায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণ করা হয়েছিল। ইউজিসির অনুমোদিত উপ-প্রধান প্রকৌশলীর পদে জনবল নিয়োগ না দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগদানের উদ্দেশে উপ-প্রধান প্রকৌশলী পদের বিপরীতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত বছর। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম আবেদন করেন। রুয়েটে সহকারী প্রকৌশল হিসেবে ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত কাজ করাকে আবেদনে অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার তারিখ ও অভিজ্ঞতা সনদের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা ও রুয়েটের চাকরির ছাড়পত্র না থাকায় তার আবেদন বাতিল করে প্ল্যাানিং কমিটি। তখন উপাচার্য প্ল্যাানিং কমিটিই বিলুপ্ত করে দেন। এরপর ১৪ অক্টোবর একই পদে আবারও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এতেও আবেদন করেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে নিয়োগের জন্য প্ল্যাানিং কমিটি গঠন করা হলেও এ কমিটির কোনো মিটিং করতে দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলীর পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ২১ জুলাই ২০০৯ তারিখে বরখাস্ত করা হয় । জাহাঙ্গীর আলম ২০০৯ সালের ২২ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে ‘নির্বাহী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগ পান। পরে ২০১৩ জানুয়ারি মাসের গণ নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।