মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে সমন্বয়হীনতায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস পালন

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রশাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সমন্বয়হীনতায় গা ছাড়াভাবে পালিত হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এর ৯৭ তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৬। অনুষ্ঠান আয়োজনে মোটা অংকের বাজেট থাকলেও ছিলো না শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো সংগঠনের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ।

ফলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আসা রংপুরের সিদ্দিক মেমোরিয়াল স্কুল এবং নালন্দা ইন্টান্যাশনাল স্কুল এর শিক্ষার্থীদের দিয়েই করতে হলো শোভাযাত্রা। সাথে ছিলো উপাচার্যসহ গুটি কয়েক শিক্ষক ও কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা সভা এবং আবৃত্তি ও দেশগান প্রতিযোগিতা’র আয়োজন থাকলেও শিক্ষার্থীদের তেমন অংশগ্রহন লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি কোনো বিভাগের পক্ষ থেকেও পুষ্পার্ঘ্য অর্পন ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন ছিলো না।
একটি মহান দিবসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের অংশগ্রহণ না থাকা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে বড় একটি আন্তরিকতার ফাটল ধরেছে এবং সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে।

এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’কে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলাদাভাবে চিঠি দিলেও ছিলো না ফুল দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ। এ মাসের শুরু থেকে সাদামাটাভাবে চলছে নিয়ম রক্ষার অনুষ্ঠানের আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সমন্বয়হীনতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন,প্রশাসনের বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারনেই আজকের এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। উপাচার্য অনেকটা সময় ধরে ঢাকায় থাকেন। তিনি হঠাৎ করে এসে অনুষ্ঠানের কমিটি গঠন করে দেন। বিভাগগুলোতে খুব অল্প সময়ে এমনকি একদিন আগে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের ব্যাপারে তেমন উদ্বুদ্ধ করা বা উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তিনি আরো বলেন, যদি প্রশাসন কয়েকদিন সময় নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, বিভাগগুলোতে জানায় এবং ঠিক সময়ে চিঠি প্রদান করে তাহলে অনুষ্ঠান সুন্দর ও ফলপ্রসু হতে পারে। কিন্তু এটা করা হয় না।

অন্যান্য দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনকে শহীদ মিনার বা স্বাধীনতা স্মারকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে দেখলেও এবার তা লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ টি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও লক্ষ্য করা যায়নি। তবে গুটি কয়েক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আসা বাইরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শোভাযাত্রা করতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এমনকি অনুষ্ঠানে চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নজরে আসে নি।

সময় অনুযায়ী সকাল ৯ টায় শোভাযাত্রা আরম্ভের কথা থাকলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ না থাকায় উপাচার্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে প্রায় ঘন্টাখানেক। এরপরও সকলের অংশগ্রহণ না থাকায় অবশেষে বাইরের শিক্ষার্থীদের দিয়েই শোভাযাত্রা শেষ হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে অসৌজন্যতা,তাদের দাবি আদায়ে অনীহা,পদোন্নতি আটকে রাখা ও বিশেষ দিবসে বিভাগগুলোতে সঠিকভাবে না জানানো,বিভিন্ন সংগঠনের সাথে বৈরী সম্পর্ক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয়হীনতা, তাদের অংশগ্রহণেতেমন উদ্বুদ্ধ না করা ইত্যাদির কারনেই আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব)মোঃ শাহীনুর রহমান সমন্বয়হীনতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত ছিলো তা আমরা সম্পূর্ণভাবে পালন করেছি। তবে কেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী (অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে) অংশগ্রহণ করেনি সেটা তারাই বলতে পারবেন।’ অনুষ্ঠানের একদিন আগে প্রতিটি বিভাগে চিঠি প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘এটা প্রস্তুতি গ্রহনের অনেক (যথেষ্ট) সময়’ বলে তিনি জানান।

তবে উপাচার্য,হল, শিক্ষক সমিতি, বাংলার মুখ,বঙ্গবন্ধু পরিষদ (শিক্ষক) বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করে।
উল্লেখ্য যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিভিন্ন দাবি পূরণার্থে সকলের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গত বছরের চরম আন্দোলনের পর থেকেই ক্রমেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয় যা আজও চলমান।