মেইন ম্যেনু

বেরোবির নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণে ছাত্রলীগের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি)জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটুক্তির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ চেয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখা।

বুধবার বিকেলে মেইলে পাঠানো সংগঠনটির সভাপতি(কার্যকরী)আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত অভিযোগ সম্বলিত স্মারকলিপির মাধ্যমে এ অপসারণ চায় সংগঠনটি। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

উপাচার্য বরাবর পাঠানো স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করে, আজ(বুধবার) বেলা পৌনে ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের নিকট সাক্ষাৎ করতে গেলে কথার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামে কটুক্তি করেন তিনি।সাক্ষাৎ করতে যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীরা তার প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার তাদের কে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করে তারা।

লিখিত অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতারা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীরকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখা।

image

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এক মুঠোফোনে বলেন,‘আমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় যেমন হল,ভবনগুলোর টেপে পানি না থাকা ইত্যাদির বিষয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে কথার এক পর্যায়ে তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করেন।হলের ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন,তিনি(জাহাঙ্গীর আলম)অনেকদিন যাবত এর দায়িত্বে আছেন।সুতরাং তার জন্যই হল চালু সম্ভব হয়নি।হলের অ্যাকুপমেন্ট(প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ) হারানোর বিষয় তার উপরই বর্তায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

উল্লেখ্য যে হল নির্মাণের ৩ বছর হলেও এখনো খুলে দেওয়া হয়নি।এ দিকে গত ১ মাস আগে হলের বেশ কিছু অ্যাকুইপমেন্ট (যন্ত্রাংশ) চুরি হয়।এত উদ্বিগ্ন হযে পড়ে শিক্ষত সহ শিক্ষার্থীবৃন্দ।তবে গত সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হল এর প্রভোস্ট ড. কমলেশ চন্দ্র সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলটি চালুর দাবি সংবলিত পত্র বিকেল ৪টায় উপাচার্যের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

ছাত্রলীগের অভিযোগের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বুধবার দুপুর ববারোটার দিকে অফিসে প্রবেশের পথে বাধা দেয় ছাত্রলীগ নেতারা। তারা আমার কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবী করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। এসময় তারা আমার চাকুরী খাওয়ার হুমকী দেয় এবং সাথে সাথে মিথ্যা অপবাদ ছড়ায় যে আমি বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ইতোমধ্যেই উপাচার্য মহাদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি। আর ছাত্রলীগের বেপোয়ারা চাঁদাবাজি ও খারাপ আচরণের কারণে অফিস করা আমাদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এছাড়া লাঞ্চিত ও চাঁদাবাজির কারণে থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।”

বঙ্গবন্ধুর কটুক্তির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করেছি তার প্রমাণ কী?’ এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসানকে জিজ্ঞেস করলে সুস্পষ্ট করে কটুক্তির বিষয়টি বলতে পারেন নি।