মেইন ম্যেনু

বেশিক্ষণ “চেপে” রাখলে কী ক্ষতি হতে পারে আপনার?

এমনটা করি আমরা সবাই। হয়তো লম্বা দুরত্বে যাওয়া হচ্ছে, রাস্তায় অনেকটা সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন। হয়তোবা পাবলিক টয়লেট দেখেও বিরক্তিতে টয়লেট চেপেই রাখলেন।

এমন চেপে রাখাটা যে ক্ষতিকর, তা কেউ বলে না দিলেও আমরা বুঝি, কিন্তু এরপরেও কাজটা সবাই করে থাকেন হরহামেশা। আপনি কী জানেন, টয়লেট চেপে রাখলে আসলে কী হয় আমাদের শরীরে?

আমরা অনেকেই এই কাজটা করি। রাস্তায় তো বটেই, অনেকে বদভ্যাসবশত ঘরে বসেও আলসেমি করে সময়মত বাথরুমে যেতে চান না। এছাড়াও দেখা যায়, নারীরা মুত্র চেপে রাখার কাজটা বেশি করেন। সাধারণত পাবলিক টয়লেটে যাবার ক্ষেত্রে পুরুষের চাইতে নারীদের অনীহা বেশি হয়। প্রথমেই জেনে রাখুন, মুত্র চেপে রাখলে ভালো কিছু হয় না। বেশি সময় ধরে মুত্র চেপে রাখলে ক্ষতি আপনারই হবে। আর ঘন ঘন এভাবে মুত্র চেপে রাখতে থাকলে আপনার শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়ে যাবে। ইউরিনারি রিটেনশন, ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া এমন সমস্যা হতেই পারে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্লাডার দুই কাপের মতো মুত্র ধারণ করতে পারে। দুই কাপ পূরণ হয়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায় যে এখন ব্লাডার খালি করতে হবে। আপনি যদি এ সিগন্যাল উপেক্ষা করেন এবং আরও বেশি পরিমাণে মুত্র চেপে রাখেন তাহলে ব্লাডারের সিলিন্ড্রিক্যাল স্ফিঙ্কটার খুব শক্ত হয়ে বন্ধ হয়ে থাকে যাতে কোন তরল বের হতে না পারে। এমনকি কখনো কখনো (খুবই দুর্লভ সব অবস্থায়) ব্লাডার ফেটেও যেতে পারে। সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ঘন ঘন মুত্র চেপে রাখার ফলে ইউরিনারি রিটেনশনের সমস্যাটা দেখা যায়। এই সমস্যা হলে আপনি একবারে মুত্রত্যাগ করে ব্লাডার খালি করতে পারেন না। বারবার যেতে হয় টয়লেটে। ব্লাডারের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এমনটা হয়। বয়সের সাথে এই সমস্যাটা দেখা দেয় সাধারণত। শুধু তাই নয়, এভাবে মুত্র চেপে রাখতে রাখতে আপনার ব্লাডারে জীবাণু ভরে যায়। এটা ব্লাডার বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের সম্ভাবনা বাড়ায় অনেকগুণ।

কী হবে আপনি যদি অতিরিক্ত সময় ধরে ব্লাডারে মুত্র ধরে রাখেন? ব্লাডার কি ফেটে যাবে? সাধারণত এমন অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়, ব্লাডার মুত্র ধরে রাখতে পারে না এবং আপনার ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে আপনার ব্লাডার খালি হয়ে যায়। অর্থাৎ অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে ভিজিয়ে ফেলেন আপনি। এমন বিব্রতকর অবস্থা না চাইলে সময়মত মুত্রত্যাগ করাই ভালো। কিন্তু কিছু কিছু খুব দুর্লভ ক্ষেত্রে ব্লাডার ফেটে যাবার ঘটনা দেখা যায় বৈ কি।

সাধারণত যাদের ব্লাডার ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত (যেমন কোন পেলভিক ইনজুরির কারণে)। এটা হতে পারে অ্যালকোহল পানের কারণে। এই অ্যালকোহল ব্লাডার থেকে মস্তিষ্কে সিগন্যাল যাওয়াটাকে ব্যহত করে থাকতে পারে। কিন্তু এটা আসলেই খুব দুর্লভ তাই চিন্তিত না হলেও চলবে। দেখলেন তো, মুত্র ধরে রাখলে কেমন সব ঝামেলায় আপনাকে পড়তে হতে পারে? ব্লাডার ফাটা বাদ দিলেও, কয়েক ঘন্টা জোর করে মুত্র চেপে রাখলে জনসমক্ষে বিব্রত হতে চাইবেন না নিশ্চয়ই।

সাধারণত নারীরা ৩-৬ ঘন্টা মুত্র চেপে রাখতে পারেন। কিন্তু এটা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হয়। এ কারণে যতো দ্রুত সম্ভব ব্লাডার খালি করে ফেলুন। থাকুন সুস্থ।