মেইন ম্যেনু

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে করারোপে খরচ বাড়বে শিক্ষার্থীর

প্রতিনিয়ত বাড়ছে উচ্চ শিক্ষার খরচ। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার খরচ আগে থেকেই বেশি। তার ওপর সদ্য ঘোষিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার খরচ আরো বাড়তে যাচ্ছে। যার চাপ গিয়ে সরাসরি পড়বে শিক্ষার্থীদের উপরে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বিপরীতে বর্তমানে সংকুচিত মূল্য ভিত্তিতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর বর্তমানে মূসক আরোপিত নেই। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পাশাপাশি এ খাতগুলোকেও মূসকের আওতায় আনার প্রস্তাব করছি। তবে কর সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এ ক্ষেত্রে সঙ্কুচিত মূল্য ভিত্তিতে ১০ শতাংশ মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’

এ বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্বরিৎ ও ত্বরিৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিথুন রহমান বলেন, ‘আগে থেকেই আমাদের শিক্ষার খরচ বেশি। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খরচের পার্থক্যও অনেক। সেখানে আবার ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে শিক্ষার খরচ আরো বাড়বে। আর এ চাপ সরাসরি পড়বে আমাদের উপরে। এসব বিষয়গুলো সরকারের ভেবে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

একই প্রসঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা আমিন বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশে শিক্ষার খরচ কম। সেখানে আগে থেকেই আমাদের শিক্ষার খরচ বেশি। তার উপর আবার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর। এর ফলে আমাদের শিক্ষার খরচ আরো বাড়বে। যেখানে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির কথা বলছেন, সেখানে শিক্ষার খরচ বাড়ানো হচ্ছে। এটা মোটেও কাম্য নয়।’

বর্তমানে দেশের সরকারি অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি হয় ৬০ শতাংশ। সেখানে যদি করের বোঝা বাড়ে তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার সংখ্যাও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এর আগেও বিভিন্ন সরকারের আমলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে অতিরিক্ত করের প্রস্তাব করা হলেও, পরবর্তীতে তা বাতিল হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। সেখানে ভ্যাট আরোপ করা যুক্তিযুক্ত নয়। ভ্যাট আরোপ করা হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে এবং তার অতিরিক্ত অর্থ মূলতঃ শিক্ষার্থীদেরকেই বহন করতে হবে। যা শিক্ষার্থীর পরিবারের উপর যেমনি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, তেমনি উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিতে বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করবে।’ এর পাশাপাশি অভিভাবকরা উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে সন্তানদের ভর্তি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

পূর্বের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনো প্রকার ভ্যাট দিতে হতো না। পরবর্তীতে সরকার ভাড়াকৃত স্পেসের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করেছিল, যা পুনরায় ৯.৫%-এ ধার্য করা হয়। ফলে আমরা আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাকে আলাদা করে দেখা উচিৎ। তাতেই আমাদের শিক্ষার উন্নয়ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যদি বেশি খরচ হয়, তাহলে সেটা শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের উপর থেকে যেকোনো ধরনের চাপ কমানোই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।’

বেসরকারি শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মতো মনে করে বলেই কর আরোপ করেছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত কর আরোপ করার ফলে এ কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসি’র তথ্য মতে, বাংলাদেশে এখন সবমিলিয়ে ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৮০ হাজার। বেসরকারি ৬৬টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে আরো সাড়ে ৬ হাজার। ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করে আট লাখ ৮৫ হাজার ৭০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে ৭০ হাজার ৬০২ জন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত আসন আছে ৫১ হাজারের মতো। এর বাইরে বিভিন্ন কলেজে অনার্স পর্যায়ের আসন সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। ফলে প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়।