মেইন ম্যেনু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২২ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য

দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের শূন্যপদ ২২ হাজার ৫৬৭টি বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অষ্টম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকাও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এভিডেভিট আকারে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে সংগৃহীত দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদ ও বিষয়ভিত্তিক ২২ হাজার ৫৬৭ টি শূন্য পদের একটি তালিকা আদালতের বিবেচনার জন্য পেশ করা হলো। প্রতিদিন/প্রতিমাসে অবসর/মৃত্যু/চাকরি ত্যাগ ইত্যাদি কারণে শূণ্যপদের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মো. লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান। রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ন কবির। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে সপ্তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উপজেলা ও জেলাভিত্তিক কোনো কোনো তথ্য এনটিআরসিএর দফতরে সংরক্ষিত না থাকায় এ সাতটি নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধাতালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এরপরও আদালত প্রয়োজন মনে করলে প্রথম থেকে সপ্তম নিবন্ধন এবং বিশেষ নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৩ জন প্রার্থীর জেলা, উপজেলার তথ্য নতুন করে সংগ্রহ করে একটি মেধাতালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অষ্টম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উপজেলা, জেলা ও জাতীয়ভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ মে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা চাওয়া হয়।

এছাড়া নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিনবছর নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না ও নিবন্ধন সনদধারীদের কেন নিয়োগ দেয়া হবে না’ এই মর্মে রুলও জারি করেন আদালত।

গত ২৫ মে নিবন্ধন সনদধারী সিরাজগঞ্জের লিখন কুমার সরকারসহ বিভিন্ন জেলার ১৪৯ জন সনদের মেয়াদ তিনবছর নির্ধারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির বলেন, ২০০৬ সালের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যায়ন বিধিমালায় নিবন্ধনের কোনো সময়সীমা ছিল না।

পরবর্তীতে সংশোধিত বিধিমালায় নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিনবছর নির্ধারণ করা হয়।

সংশোধিত বিধিমালার ১০(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‌‘বিধি ১০-এর উপ-বিধি(১)-এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হইবে।, যথা:-‘(১) বিধি ৯-এর উপ-বিধি (৩) অনুযায়ী পরীক্ষায় ফল প্রকাশের অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত ফরম-৩ অনুযায়ী শিক্ষক নিবন্ধন রেজিস্ট্রারে বা ডাটাবেজে নিবন্ধন করিবে ও ফরম ৪ অনুযায়ী তিনবছর মেয়াদি প্রত্যায়নপত্র প্রদান করিবে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই