মেইন ম্যেনু

বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য দারুন সুখবর

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অষ্টম পে-স্কেলে বেতন দিতে ২ হাজার ৪৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন পে-স্কেলে গত বছরের ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) বকেয়া বেতন বাবদ এ অর্থের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার বেতনভাতা বাবদ ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৪ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গেল মঙ্গলবার এ প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট) হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার বলেন, চলতি বাজেটে বেতনভাতা খাতে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের বেতনভাতা বাবদ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সমন্বিত পৃথক একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপনের বাইরে রাখা হয় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনের বিষয়টি। পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অষ্টম বেতন স্কেল পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উল্লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা সপ্তম স্কেলে বেতন উত্তোলন করেছে। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর- এ ছয় মাসে বকেয়া বেতন বাবদ এক হাজার ৯৮০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে এমপিওভুক্ত কলেজের জন্য বেতন খাতে প্রায় ২৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-এ তিন মাসে প্রয়োজন হবে ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এছাড়া জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে এমপিওভুক্ত স্কুলের বেতন খাতে ৪৭৯ কোটি টাকা এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এ তিন মাসে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪৮১ কোটি টাকা। আর মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন বাবদ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে প্রয়োজন হবে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে একই খাতে টাকা ব্যয় হবে প্রায় ২৭৬ কোটি টাকা।

বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা : আগামী জুলাই থেকে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টদের বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ব্যয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দুই ভাতার কারণে বর্তমানের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ৪০২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ২৫১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সপ্তম বেতন কাঠামোর তুলনায় ছয় মাসের বকেয়া বেতনের (গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর) জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ৭১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের বকেয়া তিন মাসের বেতন খাতে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) অর্থের প্রয়োজন হবে ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।

আর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। একইভাবে স্কুলের ক্ষেত্রে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে ১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এ তিন মাসে প্রয়োজন হবে ১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। পাশাপাশি মাদ্রাসার জন্য গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর ছয় মাসের বকেয়া বেতন খাতে অর্থের প্রয়োজন হবে এক কোটি সাত লাখ টাকা।

বাড়িভাতা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় : কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া আগামী জুলাই থেকে ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ব্যয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দুই ভাতার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমানের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।