মেইন ম্যেনু

বেড়েছে খাসির মাংস ও আলুর দাম, কমেছে মুরগি

কয়েকদিন আগেও রাজধানীতে খাসির মাংস বিক্রি হতো ৫০০ টাকা থেকে ৫৮০ টাকায়, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিকেজি খাসির মাংসের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা। একই সঙ্গে বাজারে আলু ও ডিমের দামও বেড়েছে। আলু, ডিম ও খাসির মাংসের দাম বাড়লেও বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম সামান্য কমেছে। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে সবজির দাম আগের চেয়ে কমে ক্রেতাদের হাতের নাগালের মধ্যে আছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনটিই ‍জানা গেছে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিকেজি খাসির মাংসে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। আগে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হতো ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়, শুক্রবার তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ ‍টাকায়। তবে কী কারণে খাসির মাংসের দাম বেড়েছে তা সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ছিল ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, মরিচ ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, টমেটো ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়, গাজর ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়), শশা ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, করলা ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, পটল ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, কাকরুল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, ওস্তা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, জলপাই ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, দুন্দল ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, ররবটি ৩৫ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়), কচুর ছড়ি ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, লতি ৩০ টাকা ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সাদা গোল আলুর দাম বেড়েছে। শুক্রবার প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টায়। গত সপ্তাহে এসব আলু বিক্রি হয়েছে ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি নতুন গোল আলু ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৪০ টাকায় এবং ছোট লাউ ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি ছোট কুমড়া ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়িদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো সঙ্কট নেই। কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম অনেক কম, ক্রেতাও কম। তাই বেচাকেনায় মন্দা যাচ্ছে।

সেগুনাবাগিচা বাজারের কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ি আবদুল লতিফ জানান, বাজারে এখন সব পণ্যে দামই কম। তবু বেচাকেনা খুব খারাপ। যখন পণ্যের দাম বেশি ছিল তখন যেমন আমদানি করতাম তেমনি বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন পণ্যের দাম কম কিন্তু কাস্টমার নেই।

এদিকে, বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং আমদানি করা রসুন ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আদা ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অপরদিকে, বাজারে ডিমের দাম সামান্য বেড়েছে । খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি হাসের ডিম ৪০ ‍টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজারে ব্রয়লার মুরগির একশ ডিম ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকায়। এছাড়া হাসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০টি ৯৫০ টাকায়।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম (সাদা) ১৩৫ টাকা ১৩৫ টাকা । গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকায়। বাজারে ব্রয়লার মুরগি (লাল) ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এসব মুরগি গত সপ্তাহে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায় ।

বাজারে গরুর ‍মাংসের দাম অপরিবর্তিত আছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৪২ টাকা থেকে ৪৩ টাকায়, নাজিরশাইল ৪৭ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়, মোটা চাল ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাপ্তান বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা হাজি মনির হোসেন জানান, শীতকালে খাসির মাংসের চাহিদা বেশি। কিন্তু বাজারে খাসির সঙ্কট, সে কারণে খাসির মাংসের দাম সামান্য বেড়েছে।