মেইন ম্যেনু

বৈঠকে সুফল মেলেনি, নৌ ধর্মঘট অব্যাহত

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও নৌপথে সন্ত্রাসী-ডাকাতি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের ডাকা লাগাতার ধর্মঘট নিয়ে সরকারের সঙ্গে মালিক-শ্রমিকদের বৈঠক কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের ডাকা নৌধর্মঘট অব্যাহত আছে।

সমস্যা নিরসনে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় শ্রম পরিদপ্তরে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে সরকার। শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব এস এম আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে বৈঠকে লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে যুগ্মসচিব আশরাফুজ্জামান বলেন, দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা হয়েছে। এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারলেও খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আশরাফুজ্জামান বলেন, বৈঠকে মালিক–শ্রমিক দুপক্ষই তাদের দাবি তুলে ধরেছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন প্রস্তাবও দিয়েছে। আরও কয়েকবার বৈঠকে বসে এসব বিষয় সমাধান করা হবে। আশা করছি পবিত্র ঈদুল আযহার আগেই সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য দুপক্ষই রাজি হয়েছে।

বৈঠকের পর কার্গো অর্নার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সমস্যা নিরসনে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগির আলোচনা ফলপ্রসু হবে।

উল্লেখ্য, ১৫ দফা দাবিতে গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিট থেকে ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘটের নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। এতে ১৭টি নৌশ্রমিক সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সমর্থন দেয়।

বৃহস্পতিবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের তৃতীয় দিন চলছে। তবে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন বুধবার রাতে রাজধানীর সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ২৭টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

অন্যদিকে ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মংলা বন্দরে অবস্থান করা গম, সার, ক্লিঙ্কার, পাথর, যন্ত্রপাতিসহ সব দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস ও পরিবহন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় মংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগও বন্ধ আছে।

ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ১৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। এর মধ্যে মূল চারটি দাবি হলো- নৌযান শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নৌ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, নদীপথে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ করা এবং নৌপথের নাব্যতা বাড়ানো। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।



(পরের সংবাদ) »