মেইন ম্যেনু

সাক্ষীকে মুফতি হান্নান :

‘বোমাটা তোকেই মারা উচিত ছিল, তুই আমাকে চিনিস?

২০০১ সালে পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে মামলাটির প্রধান আসামি মুফতি হান্নান বলেছেন, ‘বোমাটি তোকেই মারা উচিত ছিল।’

বৃহস্পতিবার এ মামলায় অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তসলিম ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. ইমরুল কায়েসের আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

জানা যায়, বিচারক এজলাস থেকে নেমে যাবার পর সাক্ষী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি মুফতি হান্নান তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বোমাটা তোকেই মারা উচিত ছিল। তুই আমাকে চিনিস? আদালত থেকে বের হ, তোকে আমি দেখে নেব।’

অ্যাডভোকেট তসলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ সময় কাঠগড়ার লোহার ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়েও তাকে ধরার চেষ্টা করেন মুফতি হান্নান। এ সময় আদালতের পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল।’

মুফতি হান্নানের চিৎকার-চেঁচামেচিতে খাসকামরা থেকে বিচারক ইমরুল কায়েস সিভিল পোশাকেই দ্রুত বের হয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আসামিদের দ্রুত হাজতখানায় নিতেও পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, অ্যাডভোকেট তসলিম এ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। বোমা হামলার সময় তিনি সমাবেশে ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির ডাকা লাল পতাকার সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধির আইনে পৃথক দুই মামলা দায়ের করেন সিপিবির সে সময়কার সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান।

এ মামলার ১৩ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি হলেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নান। অন্য ১২ আসামি হচ্ছেন- মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নুর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ও মো. মশিউর রহমান কারাগারে আটক আছেন। তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ছয় আসামি পলাতক।

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই এবং খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যান। বোমা হামলায় আহত হন সিপিবির শতাধিক কর্মী।