মেইন ম্যেনু

বোলারদের নৈপুণ্যে ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়

জয় দিয়েই বিপিএলের তৃতীয় আসর শুরু করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১১০ রানে বেঁধে ফেলে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে কুমার সাঙ্গাকারার দল।

রোববার মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১০ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ৪ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ঢাকা। দুই দলেরই এটা ছিল প্রথম ম্যাচ আর আসরের দ্বিতীয়। প্রথম ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ২ উইকেটের নাটকীয় জয় পায় রংপুর রাইডার্স।

কুমিল্লার দেওয়া ১১১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ২৯ রানে ব্যক্তিগত ১৯ রান করে ফিরে যান শামসুর রহমান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে নাসির জামশেদ ও সাঙ্গাকারা মিলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন। সুনীল নারিনের বলে জামশেদ (৪৪) ফিরে গেলে ভেঙে যায় এ জুটি।

এরপর দলের জয় থেকে ১৩ রান দূরে থাকতে আবু হায়দারের বলে বোল্ড হন সাঙ্গাকারা (২৫)। আর দলের জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৭)। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন পড়ে ৪ রান। তবে প্রথম দুই বলেই জয় নিশ্চিত করে ঢাকা। রায়ান টেনডাসকাট ৮ ও নাসির হোসেন ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। তবে মাত্র ৩৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আবুল হাসান রাজুর শিকারে পরিণত হন কুমিল্লার ওপেনার ইমরুল কায়েস। ফরহাদ রেজাকে ক্যাচ দেওয়া এই বাঁহাতি ওপেনার ডাক মারেন।

আরেক ওপেনার লিটন দাসও ফিরে যান পরের ওভারেই। ফরহাদ রেজার বলে মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি (৩)। রাজু নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে বিদায় করেন শুভাগত হোমকে (৪)।

তিনে নামা মারলন স্যামুয়েলসকে বোল্ড করে ইনিংসে নিজের প্রথম উইকেট নেন জাতীয় দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তারপর স্টিভেন্সও দ্রুতই ফিরলে ৩৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে কুমিল্লা।

এরপর ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদুল হাসান (২২) ও আরিফুল হক (১৩) মিলে ২৩ রানের জুটি গড়লেও মোশাররফ হোসেন নিজেদের পর পর দুই ওভারে দুজনকেই সাজঘরে ফেরান। ফলে ১৩.৩ ওভার শেষে কুমিল্লার স্কোর দাঁড়ায় ৬৬/৭।

সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে মাশরাফি ও ক্রিসমার সান্তোকির ৪৩ রানের জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে কোনোমতে ১১০ রান করতে পারে কুমিল্লা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান আসে অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাট থেকেই। তার ২৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কার মার। ১৬ বলে তিন চারের সাহায্যে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন সান্তোকি।

ঢাকার হয়ে আবুল হাসান রাজু সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ২৯ রানের বিনিময়ে। ১৫ রানে ২ উইকেট নেন মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ও ফরহাদ রেজার ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন বর আবুল হাসান রাজু।