মেইন ম্যেনু

বৌ খোঁজার জন্য অভিনব প্যারোডি ভিডিও, ভারত জুড়ে তোলপাড়

শাশুড়িরা নিজের ছেলের জন্য কী ধরনের বৌমা খোঁজেন, তা নিয়ে তিনজন ছাত্রীর বানানো একটি প্যারোডি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতে যে এখনও লম্বা, ফর্সা, সুন্দরী ও গোল রুটি বানাতে পারা বউদেরই কদর – এবং চাকরি করলেও তাদের বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হবে, গানের এই কলিগুলো এর মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

এর নির্মাতারা বলেছেন, নিছক কলেজ প্রতিযোগিতার জন্যে বানানো এই ভিডিওটি দেশে যে প্রবল আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাতে তারা খুশি – এবং সমাজতাত্ত্বিকরাও একমত যে এর বার্তাটি উপেক্ষা করার মতো নয়।

কার্লি রে জেপসেনের গান ‘কল মি মে বি’-র অনুকরণে চেন্নাই আইআইটির তিন ছাত্রী দিন-কয়েক আগে বানিয়েছিল একটি প্যারোডি ভিডিও ‘বি আওয়ার পোনডাতি’, যার মানে ‘আমাদের বাড়ির বউ হও।’

ভারতের স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারে শাশুড়িরা ঠিক কী ধরনের পুত্রবধূ খোঁজেন – তার একটি মজার ছবি তুলে ধরেছে এই ভিডিও, আর আবির্ভাবের দু’সপ্তাহের মধ্যেই ইউটিউবে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন সেই গান।

চাকরিতে সফল, দীর্ঘদেহী এবং দশ নম্বর জুতোর সাইজওলা সুযোগ্য পাত্রের জন্য মায়েরা যে মানানসই পাত্রী খুঁজবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী?

ভিডিওটি বানিয়েছে যে তিন ছাত্রী, তাদেরই অন্যতম অস্মিতা ঘোষ বলছিলেন, দুই পরিবারে দেখাশুনো করে যে সব বিয়ের আয়োজন হয়, আশেপাশে দেখা এমন বহু অভিজ্ঞতাই তাদের এই গানটা লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তার কথায়, আমাদের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়রা অনেকে বিয়ের বয়সে এখন – আসলে তাদের সবার কথাই এখানে বলা হয়েছে। এই ভিডিওতে যে ফেমিনিস্ট সাবটেক্সটা আছে, আমরা কিন্তু আসলে ওভাবেই ভাবি।

তবে নিছক কলেজে প্যারোডি প্রতিযোগিতার জন্য বানানো এই ভিডিওটা যে দেশ জুড়ে এত শোরগোল তুলবে বা একটা প্রয়োজনীয় সংলাপের জন্ম দেবে, সেটা তিন ছাত্রীর কেউই ভাবেনি।

গানে শাশুড়ি বলছেন, পুত্রবধূকে শুধু সুশ্রী, তন্বী, ফর্সা হলেই হবে না – নিখুঁত গোল রুটিও বানাতে জানতে হবে। চাকরি যদি করেও, বিকেলে ফিরে তার ছেলের জন্য সম্বর-বড়াও বানাতে হবে।

সমাজতাত্ত্বিক অভিজিৎ মিত্রও মনে করেন, ২০১৬তে এসে ভারতীয় শাশুড়ির চাহিদার ধরন হয়তো কিছুটা বদলেছে, কিন্তু পুত্রবধূকে নিজস্ব স্পেস দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়নি।

অধ্যাপক মিত্র বলছেন, এখন বউ খোঁজার মধ্যে নতুন ও পুরনো যুগের দুটোরই ভাল খোঁজার প্রচেষ্টা দেখি। মানে সেবা করা, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা – ওগুলো থাকবে। পাশাপাশি এ যুগের মতো বাইরের চাকরিও থাকবে। যেটা নেই সেটা হল বধূর ব্যক্তিস্বাধীনতা – তাকে চাকরি করতে দেওয়াও কিন্তু আসলে পরিবারে সচ্ছলতা আনতেই। ওটাও এক ধরনের সেবা-ই বলব!’

এই ভিডিওর গীতিকার অস্মিতা ঘোষও মনে করেন, পুত্রবধূর মধ্যে নানা গুণ দেখতে চাওয়ায় দোষের কিছু নেই, অসুবিধা হল এর পুরোটাই শুধু একতরফা – কারণ ছেলের জন্য এর কোনোটাই প্রযোজ্য নয়।

‘এই গানটার জন্য আমরা বহু ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন খুঁটিয়ে দেখেছি। আমি মনে করি, অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ ভারতে অনিবার্য – আর নিজের ছেলে বা মেয়ের জীবনসঙ্গী খুঁজতে গেলে আপনি অবশ্যই আপনার পছন্দসই কাউকেই খুঁজবেন!’

‘তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই – কিন্তু মুশকিল হল এই চাওয়াটা খুব লিঙ্গভিত্তিক। মানে মেয়েদের কাছ থেকে যেটা প্রত্যাশা করা হয়, তার ছিটেফোঁটাও কিন্তু ছেলেদের কাছ থেকে চাওয়া হয় না’, বলছিলেন অস্মিতা।

অস্মিতা ও তার দুই বন্ধু, অনুকৃপা ইলাঙ্গো আর ক্রুপা ভার্গিস আর তাই তাদের প্যারোডির সুরে ভারতে একটা ভীষণ জরুরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে – বিয়েতে সব শর্তই কি শুধু মেয়েদের জন্য? -বিবিসি