মেইন ম্যেনু

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, মাত্র একশ’ টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া!

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে সরকার। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে মা ও শিশুসহ প্রায় সব ধরনের রোগীর চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগ নেয়া দরকার, যা গরিব মানুষদের সহায়ক হিসেবে কাজে লাগে।

এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে নওগাঁর ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদে। মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় মাতৃছায়া নামে একটি ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হয়েছে। উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত ২৮ জানুয়ারি ‘কাইযেন’ সেবা মেলায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়।

একটি ইজিবাইককে (ব্যাটারিচালিত চার্জার) অ্যাম্বুলেন্স রূপ দেয়া হয়েছে। সবুজ রঙের ইজিবাইককে নাম দেয়া হয়েছে মাতৃছায়া। ছাদে ঘূর্ণায়মান লাল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে ঠিক অ্যাম্বুলেন্সের মত সাইরেন বাজিয়ে গ্রামের কাঁচা-পাকা মেঠো পথে ছুটে চলে সেই অ্যাম্বুলেন্স।

জরুরি সেবা নিতে অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে লেখা রয়েছে মোবাইল নম্বর। ভেতরে রয়েছে প্রসূতি শুয়ে-বসে যাওয়ার সুব্যবস্থা। রাত-বিরাতে মোবাইল ফোন থেকে কল করে ঠিকানা জানিয়ে দিলেই পৌঁছে যাবে সেই অ্যাম্বুলেন্স।

অ্যাম্বুলেন্সচালক আল-আমিন হোসেন জানান, গত তিন মাসে ৪০/৪৫ জন ডেলিভারি রোগীকে নিরাপদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। প্রায় সবার কাছে মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে। যেকোনো সময় ফোন করলে রোগীদের বাড়িতে চলে যাই। রোগীদের সেবার পাশাপাশি যাত্রীদের ভাড়া মারা হয়।

ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী রাম প্রসাদ ভদ্র জানান, গরিব প্রকৃতির মানুষদের বেশি টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হয় না। কম খরচে সবসময় সেবা দেয়া যায় সে চিন্তা করেই অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি করা হয়েছে। আপাতত এটি শুধু ভীমপুর ইউনিয়নবাসীর জন্য চালু করা হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্সটি ইউনিয়নের বাগাচারা কমিউনিটি ক্লিনিকে (সিসি) এককালীন দিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি যে দুটি সিসি আছে আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে পারলে সেখানেও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সটিতে একজন চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দিনের যেকোনো সময় ভীমপুর থেকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নওগাঁ সদর হাসপাতালের নেয়ার জন্য ভাড়া মাত্র একশ’ টাকা। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত দেড়শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।