মেইন ম্যেনু

ব্যর্থতার বৃত্তেই বাংলাদেশ

ম্যাচ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়! বাংলাদেশ দল দুপুর একটার মধ্যে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দল আসে দুপুর আড়াইটার পর। নির্ধারিত সময়ে টসও হয়নি। দুপুর ৩ টা ৩৬ মিনিটে মিরপুরে বৃষ্টি থামার পর আম্পায়ারা মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন ৪টা ৪৫ মিনিটে।

একদফা মাঠ পর্যবেক্ষণ করে আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নেন ৪০ ওভারের ম্যাচ শুরু হবে ৫টা ৪০ মিনিটে। ৫টা ১২ মিনিটে টস হয়।

ভাগ্যদেবীর সহায়তায় টসে জিতে ব্যাটিং নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। টানা বৃষ্টির কারণে দুদিন উইকেট ছিল ঢাকা। সূর্য্যরে আলো একটুও উইকেটে পড়েনি। সেই উইকেটে টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়াটা খানিকটা বোকামি!

ধারাভাষ্যকক্ষে বসে প্রাক্তন ক্রিকেটার আতাহার আলী যেন সেই কথাটাই বললে,‘দুদিন ধরে যেই উইকেটে ঢাকা ছিল। কেউ দেখতে পারেনি। সেই উইকেটে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই পেসাররা বাড়তি পেস ও বাউন্স পাবে।’

ফলাফল বাংলাদেশ ১৬০ রানেই অলআউট। আর দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে মাত্র ২ উইকেট হারায়। ৮ উইকেটের জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে সহজেই ১-০ এ এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।

আতাহারের কথা ভুল প্রমাণ করেননি দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত পেসার কাগিসো রাবাদা। প্রোটিয়াদের ১১৪তম ওয়ানডে ক্রিকেটার নিজের প্রথম স্পেলে তুলে নেন ৪ উইকেট, পরে নেন আরও ২টি। প্রথম স্পেলে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার পথে ইতিহাসের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক তুলে নেন রাবাদা। তামিম, লিটন ও মাহমুদউল্লাহর উইকেট নেন পরপর তিন বলে। এই পেসারের আগে অভিষেক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

রাবাদার গতিতে বাংলাদেশের রান যখন ৪ উইকেটে ৪০, সেখান থেকে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম পঞ্চম উইকেটে জুটি বাঁধেন। স্কোরকে ৯৩ পর্যন্ত টেনে নেন। মুশফিক ২৪ রানে ডুমিনির বলে আউট হয়ে গেলে সাকিব ব্যাট চালিয়ে যান। অপরপ্রান্তে থাকা সাব্বির রহমানও ৫ রানে মুশফিকের পথ অনুসরণ করেন।

দলীয় ১২০ রানে সাকিব আল হাসান ইমরান তাহিরের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়লে বাংলাদেশের বড় স্কোরের সম্ভবনা কমে যায়। সাকিব দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন ৫১ বলে। ইনিংসে ছিল ৫টি বাউন্ডারির মার।

শেষ দিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাসিরের ৩১ রানে ভর করে ১৬০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুর মত লেজটাও গুঁড়িয়ে দেন রাবাদা। দ্বিতীয় স্পেলে ২ উইকেট নিয়ে ওয়ানডের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ডও তৈরী করেন ডানহাতি এই পেসার। ৮ ওভারে ৩ মেডেনে মাত্র ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবির একাই ধসিয়ে দেন অভিষিক্ত এই পেসার। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিদেল এডওয়ার্ডস জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ ওভারে ২২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

স্কোরবোর্ডে ১৬০ রানের পুঁজি নিয়েও লড়াকু বাংলাদেশ! তিন নম্বরে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম বলেই প্রোটিয়া শিবিরে আঘাত করেন নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি। ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক হাশিম আমলাকে (১৪)। শুরুতেই উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়েছিল সফরকারীরা। নিখুঁত বোলিংয়ের পাশাপাশি চোখ-ধাঁধানো ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ সমানতালে লড়াই করছিল। কিন্তু উইকেটের দেখা পাচ্ছিল না।

দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ফাফ ডু প্লিসিস ও কুইন্টন ডি কক। নাসির দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে এই জুটি ভাঙেন ডি কককে ফিরিয়ে। ৪১ বলে ৩৫ রান করে সাব্বিরকে ক্যাচ দেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ডি কক।

সেখানেই শেষ বাংলাদেশের প্রতিরোধ। অভিজ্ঞ ফাফ ডু প্লিসিস মাথা ঠান্ডা রেখে কিভাবে ব্যাটিং করতে হয় তা যেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের শিখিয়ে দিলেন। উইকেটে থিতু মেরে থেকে বাজে বলগুলো শাসন করলেন মনের মত করে। আর ভালো বলগুলোকেও দিলেন প্রাপ্য সম্মান।

দলকে জয়ের বন্দরে নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। নামের পাশে যোগ করেন ৬৩ রান। সঙ্গে ছিলেন রিলে রুশো। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। শতরানের জুটি বেধে মাঠ ছাড়েন এই দুই প্রোটিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ জয়ের নায়ক কাগিসো রাবাদা।

এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ নিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শেষ ম্যাচে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইট-ওয়াশ হয় মাশরাফি এন্ড কোং। এরপর প্রথম ওয়ানডেতেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। এই বৃত্ত থেকে দ্রুত বের হয়ে আসাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তিদের।

একই মাঠে ১২ জুলাই দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা তাই দেখার বিষয়।