মেইন ম্যেনু

“ব্যাড বয়” সাকিবকে ঘিরে যতো বিতর্ক

বাংলাদেশ দলের সেরা তারকা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ব্যাট বলের তুখোড় পারফরমার হলেও নানা সময়ে জন্ম দিয়েছেন নানা বিতর্ক। ব্যক্তিগত আচরণের জন্য হয়েছেন নিন্দিত। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওঠা নানা বিতর্ক ঢাকাটাইমসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

* ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিতর্কে জড়ান সাকিব। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ। ব্যাট করছিলেন সাকিব। কিন্তু সাইডস্কিনের পাশে এক দর্শকের নড়াচড়া বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের। হঠাতই ক্রিজ ছেড়ে বাউন্ডারি লাইনে ছুটে যান সাকিব। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাট উঁচিয়ে ওই দর্শককে হুমকি দেন দেখে নেয়ার। তবে সে ম্যাচে ৯২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংসটি মাফ পাইয়ে দেয় তাকে।

* ২০১১ বিশ্বকাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ৫৭ রানে হারের লজ্জার পর যখন দর্শক গ্যালারিতে দুয়োধ্বনি আসলো। প্রতিবাদে সাকিব দেখালেন তার ‘মধ্যমা’। তবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের পর সাকিবের অপরাধকে ক্ষমার চোখে দেখা হয়।

* ২০১৩ সালে অটোগ্রাফ শিকারি এক দর্শকের কলার চেপে ধরে ফের বিতর্কে জড়ান সাকিব। ২৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে এক দর্শক সাকিবের কাছে অটোগ্রাফ চান। কিন্তু অটোগ্রাফ দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে কটূক্তি করলে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যালারিতে গিয়ে ওই দর্শকের কলার চেপে ধরে বসেন সাকিব। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়।

* তবে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায় তাকে প্রথমবারের মতো শাস্তি পেতে হয়। শ্রীলংকা সিরিজে একটি ম্যাচ চলাকালে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হয়েছিল। লংকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অফে ধরা পড়েন সাকিব। এ আউট নিয়ে টিভি ধারাভাষ্যকাররা আলোচনা করার সময় ড্রেসিংরুমে বসে থাকা সাকিব টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েন। ক্যামেরা দেখেই অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন তিনি।

* ২০১৪ সালের ১৬ জুন ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে চলাকালে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক দর্শককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন সাকিব।

* ২০১৪ সালের ২ জুলাই ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে চলে যান বোর্ডের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না নিয়েই। এ ব্যাপারে কোচ প্রশ্ন করলে সাকিব হুমকি দেন জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়ার।

* ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বোর্ডের নির্দেশে দেশে ফিরেই পুরো ঘটনার জন্য দায় দেন কোচ হাথুরুসিংহেকে। এ নিয়ে শুরু হয় আরেক বিতর্ক।

* ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর। বিপিএলে সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে ম্যাচে আম্পায়ার তানভীর আহমেদের সঙ্গে করে বসেন অসদাচারণ। এজন্য এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ এবং সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ।

টসে জিতে ব্যাট করছিল সিলেট সুপার স্টার্স। ইনিংসের ১৩তম ওভারে বল করছিলেন লংকান পেসার থিসারা পেরেরা। ব্যাট করছিলেন মুশফিকুর রহিম। ঘটনাটি ঘটে ঠিক তখনই।

পেরেরার করা ওভারের শেষ বলটি ব্যাটিং মুশফিকুর রহিমের হাত ছুঁয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। যথারীতি আবেদন ওঠে কট বিহাইন্ডের। কিন্তু সে আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। ব্যাস, ক্ষেপে যান অধিনায়ক সাকিব। ক্ষোভ ঝাড়েন আম্পায়ারের ওপর। মাঠে এবং টিভির স্ক্রিনে যে দৃশ্যটা দেখেছেন সবাই।

সাকিবের এমন আচরণ দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় বেচারা আম্পায়ার। সাকিবের দিতে তাকিয়ে থাকেন অবাক হয়ে। পরে লেগ আম্পায়ার এসে সরিয়ে দেন সাকিবকে।