মেইন ম্যেনু

ব্যালন ডি’অরে কে কাকে ভোট দিলেন

সব অপেক্ষার অবসান হয়েছে সোমবার জুরিখের ঝলমলে রাতে। রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো ফিফা বর্ষসেরার খেতাব জিতে নতুন উচ্চতায় এখন লিওনেল মেসি। এর আগে টানা দুইবার জিতেও এবার দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করেছেন রোনালদো। প্রথমবারের মতো সংক্ষিপ্ত তালিকায় এলেও তিনে থেকেই মিশন শেষ করেছেন নেইমার।

বিজয়ীরা নির্বাচিত হন ফিফার ২০৭টি সদস্য দেশের জাতীয় দলগুলোর অধিনায়ক ও কোচ এবং ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর বাছাই করা ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোটে। এদিক বিবেচনা করলে মেসি, নেইমার ও রোনালদোও দিয়েছেন ভোট। কারণ যার যার দেশের অধিনায়ক কিন্তু তারা তিনজন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তিনজন কাকে কাকে ভোট দিয়েছেন। কিংবা কাদের ভোটেই মেসি জিতলেন এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর অ্যাওয়ার্ড। দেখে নেয়া যাক তা।

নিজে যেহেতু ভোটার, তাই নিজেকে ভোট দেয়া যাবে না। লিওনেল মেসি তাই ভোট দিয়েছেন বার্সার তিন সতীর্থকে। তার প্রথম পছন্দ ছিল লুইস সুয়ারেজ। এরপর নেইমার। তারপর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তবে ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমার যে মেসির দারুণ ভক্ত, তা বুঝা গেছে। কারণ নেইমার তার প্রথম পছন্দের ভোট কিন্তু দিয়েছেন মেসিকে। দ্বিতীয় পছন্দ লুইস সুয়ারেজ। তৃতীয়টি তিনি দিয়েছেন বার্সা সতীর্থ ইভান রাকিটিচকেই।

মেসি-নেইমারের ভোট বার্সাতেই সীমাবদ্ধ। একই রকম রোনালদোর ক্ষেত্রেও। পর্তুগালের অধিনায়ক তিন ভোট দিয়েছেন তিন রিয়াল সতীর্থকে। প্রথম পছন্দ ছিল ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজামা। এরপর যথাক্রমে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ ও ওয়েলসের গ্যারেথ বেল। এতো গেল মেসি-নেইমার-রোনালদোর ভোট প্রসঙ্গ। এবার দেখা যাক এই তিনজনকে কারা কারা ভোট দিয়েছেন।

শুরুটা করা যাক বাংলাদেশকে দিয়েই। বাংলাদেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম প্রথম পছন্দ হিসাবে বেছে নিয়েছেন লিওনেল মেসিকেই। এরপর রোনালদো ও নেইমার। ভোটিং প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশের কোচ হিসাবে থাকা ফ্যাবিও লোপেজও প্রথম পছন্দে ভোট দিয়েছেন মেসিকে। এরপর দিয়েছেন রোনালদো। নেইমারকে মনে ধরেনি বলেই তৃতীয় পছন্দ হিসাবে তিনি ভোট দেন পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোস্কিকে।

সাবেক বার্সা সতীর্থ বলেই মেসিকে ভোলেননি সুইডেনের অধিনায়ক ইব্রাহিমোভিচ। সুইডিশ তারকা স্ট্রাইকার তিনটি ভোটই দিয়েছেন বার্সার তিন ফুটবলারকে। প্রথম পছন্দে ছিলেন মেসি, এরপর সুয়ারেজ ও নেইমার।

তবে জার্মানির অধিনায়ক বাস্তেইন শোয়েনস্টেইগারের ভোট পাননি মেসি কিংবা রোনালদো। তৃতীয় পছন্দ হিসাবে ভোট পেয়েছেন শুধু নেইমার। তার প্রথম পছন্দ ছিল জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়ের নয়্যার। দ্বিতীয় পছন্দ থমাস মুলার। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের অধিনায়ক পিওতর চেকের ভোট পাননি রোনালদো। তার ভোট গেছে যথাক্রমে মেসি, লেভানডোস্কি ও হ্যাজার্ডের বাক্সে।

বেলজিয়ামের অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানিও ভোট দেননি রোনালদোকে। মেসিকে দিয়েছেন তৃতীয় পছন্দ হিসাবে। প্রথম ও দ্বিতীয় পছন্দ ছিল তার ম্যানসিটি সতীর্থ হ্যাজার্ড ও কেভিন ডে ব্রুইন। তবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ওয়েন রুনির ভোট পেয়েছেন মেসি ও রোনালদো। প্রথম পছন্দ অবশ্য ছিল মেসি, রোনালদো তৃতীয়। রুনির দ্বিতীয় পছন্দে ছিল থমাস মুলার।

পোল্যান্ডের অধিনায়ক লেভানডোস্কি ভোট দেননি রিয়াল-বার্সার কোন খেলোয়াড়কেই। তার ভোট পড়েছে যথাক্রমে ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্তুর ভিদাল ও থুমাস মুলারের বাক্সে। তবে নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক আরিয়েন রোবেন যেন বার্সার অন্ধ সমর্থক। তার তিনটি ভোটই পেয়েছেন যথাক্রমে মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজ।

এবার আসা যাক আন্তর্জাতিক কোচদের তালিকায়। কারা কোথায় ভোট দিলেন। আর্জেন্টিনার কোচ মার্টিনো বেছে নিয়েছেন তিন শিষ্য মেসি, অ্যাগুয়েরো ও মাশ্চেরানোকে। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা অবশ্য বেশ ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। প্রথম পছন্দ নেইমার, এরপর যথাক্রমে মেসি ও রোনালদো। তবে জার্মান কোচ জোয়াকিম লো তিন শিষ্যকেই বেছে নিয়েছেন; নয়্যার, মুলার ও ক্রস।

স্পেন কোচ ভিসেন্তে দিল বস্ক প্রথম পছন্দে অবশ্য রেখেছেন মেসিকেই। দ্বিতীয় পছন্দে রোনালদো। আর তৃতীয় পছন্দে রেখেছেন নিজ দলের শিষ্য ইনিয়েস্তাকে। তবে তালিকায় প্রথম স্থানে মেসিকে রাখেননি ইংল্যান্ডের কোচ রয় হজসন। তার প্রথম পছন্দ ছিল রোনালদো, এরপর মেসি ও হ্যাজার্ড।