মেইন ম্যেনু

ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে সেমিতে প্যারাগুয়ে

২০১১ সালের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল-প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা। এবারের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালেও ব্রাজিলের সামনে পড়ে সেই প্যারাগুয়ে। কার্লোস দুঙ্গার দলের মিশন ছিল প্রতিশোধ নিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার। সে যাত্রায় উল্টো তারাই হেরে বিদায় নিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় ব্রাজিল।

এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখার যে প্রত্যাশা করেছিল ফুটবলপ্রেমীরা, সেটা শেষ হয়ে গেল। ৩০ জুন শেষ চারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে প্যারাগুয়ে।

অবশ্য ম্যাচে এগিয়ে যেতে বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে দানি আলভেসের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে যান রবিনহো। দেখেশুনে দারুণভাবে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে এটা ছিল রবিনহোর ২২তম গোল। শনিবার তিনি ৯৯তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন।

এরপর প্রথমার্ধে উভয় দল বেশ কিছু আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই টানেলে যায় সেলেসাওরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৭০ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন থিয়াগো সিলভা। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। আর পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে নেন প্যারাগুয়ের দারলিস গঞ্জালেস (১-১)।

১-১ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। কোপায় ফাইনালের আগে অতিরিক্ত সময়ের খেলা না থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে প্রথমে শট নেন ব্রাজিলের ফারনানদিনহো। তিনি গোল আদায় করে নেন। এরপর প্যারাগুয়ের ওলভার্দো মার্টিনেজও গোল পান (১-১)। ব্রাজিলের দ্বিতীয় শটটি নেন এভারটন রিবেইরো। তিনি কোথায় শট নিলেন সেটা হয়তো নিজেও জানেন না। গোলপোস্টের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যায় বল। প্যারাগুয়ের ভিক্টর সিসিরেস গোল করে এগিয়ে নেন দলকে (২-১)।

তৃতীয় শট নেন ব্রাজিলের মিরান্ডা। তিনি অবশ্য গোল পান। প্যারাগুয়ের রাউল বোবাদিল্লা গোল করে এগিয়ে রাখেন দলকে (৩-২)। ব্রাজিলের হয়ে চতুর্থ শট নেন ডগলাস কস্টা। তিনিও হতাশ করেন সেলেসাও সমর্থকদের। তার শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্যারাগুয়ের রক শান্তা ক্রুজের শটটিও বেশ ওপর দিয়ে চলে যায় (৩-২)। পঞ্চম শট থেকে গোল পান ব্রাজিলের ফিলিপে কৌতিনহো। কিন্তু প্যারাগুয়ের ডার্লিস গঞ্জালেস গোল পেলে ৪-৩ ব্যবধানে হেরেই যায় ব্রাজিল। পাশাপাশি বিদায় নেয় কোপা আমেরিকার ৪৪তম আসর থেকে।