মেইন ম্যেনু

তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে

ব্রাজিল থেকে আনা গম খাওয়ার উপযোগী!

ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত পচা গমের বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা করে খাদ্য অধিদপ্তর তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্রাজিল থেকে আনা গম খাওয়ার উপযোগী।

রোববার দুপুরের দিকে এ প্রতিবেদনটি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দেয়া হয়। এ বিষয়ে আগামী ৮ জুলাই পরবর্তী শুনানি হবে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কান্তি বল।

এর আগে গত ৩০ জুন ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম খাদ্য উপযোগী কি না তা পরীক্ষা করে জানাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি জানাতে বলা হয়। একইসঙ্গে আমদানিকৃত গম পরীক্ষার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গম আমদানির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন অ্যাডভোকেট পাভেল মিয়া।

রিটে দুদকের মাধ্যমে তদন্ত এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) ও বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারি) এর মাধ্যমে গম পরীক্ষার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়া মানহীন গম আমদানি এবং সরবরাহ কেন আইনগত কতৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না, বিএসটিআই ও বারির ল্যাবেরটরিতে পরীক্ষার কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, অনিয়মের অভিযোগ কেন তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়।

রিটে খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়। আবেদনে গম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গমের মান নিয়ে খাদ্য অধিদপ্তর থেকে আপত্তি তোলা হয়েছিল। ব্রাজিলের কৃষি মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো বিভাগের মান নিয়ে কোনো সনদ দেয়নি। বন্দরে অবস্থানকারী খাদ্য অধিদপ্তরের রসায়নবিদেরা এই গমের বেশ কয়েকটি চালানকে ‘বি’ ক্যাটাগরির বা মাঝারি থেকে নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।’

‘এসব জেনেও খাদ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক সারোয়ার খান চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ওই গমের ছাড়পত্র দেয়ার নির্দেশ দেন। অধিদপ্তরের আমদানি-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত, চিঠি ও পর্যালোচনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।’

‘এই গম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশন হিসেবে সরবরাহের পর এর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশের সব বিভাগীয় কার্যালয় এই গমকে নিম্নমানের এবং খাওয়ার অযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে একাধিকবার চিঠি দেয়। তারপরও খাদ্য মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই বারবার বলছে, এই গম অখাদ্য নয়।’