মেইন ম্যেনু

ব্রিকস-বিমসটেকের জন্য শেখ হাসিনার ৩ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিকস-বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংস্থা দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটনে এ দুই সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে একত্রে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা ব্রিকস ও বিমসটেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি পন্থা অনুসরণেরও পরামর্শ দেন।

ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটের আগে রোববার বিকালে বিমসটেক নেতাদের রিট্রিটে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল (এফটিএ) গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কানেকটিভিটি বাড়াতে বিমসটেক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর তিন পরামর্শ হচ্ছে- মানসম্পন্ন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া, প্রযুক্তির জন্য বৃহত্তর সহযোগিতা কর্মসূচি চালু এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু করা।

এসব পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক সম্ভাব্যতা ও যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণের এটাই সময়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দিতেও ব্রিকস নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নে আমাদের সব প্রচেষ্টা শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল।

শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসী-জঙ্গি ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় বিমসটেকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে আমরা সক্ষম হব।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়ানো থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এভাবে হোমগ্রোন জঙ্গিবাদ রুখে দিতে আমরা সফল হয়েছি।

বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনের আলোচনা শুরুর পর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার বিষয়টি এ অঞ্চলের নেতাদের আন্তরিকতাকেই প্রশ্নবদ্ধি করে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কানেকটিভিটি বাড়াতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বিমসটেক। এফটিএ বাস্তবায়নের পক্ষে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা পুনর্বযক্ত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং বিমসটেকের কার্যক্রম ও কর্মসূচিগুলো জোরদার করবে।

আগামী বছর বিমসটেকের ২০তম বর্ষপূর্তির সময় এফটিএ সংক্রান্ত চারটি চুক্তি গ্রহণের জন্য লক্ষ্য স্থির করার আহ্বান জানান তিনি।

বিমসেটক অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ‘আঞ্চলিক প্রকল্প’ তৈরির প্রস্তাব দিয়ে এ জোটের নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, এতে বিমসটেক যেমন জনগণের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হবে, সংগঠন আরও স্থিতিশীল ও দৃশ্যমান হবে।

আগামী ৫ বছরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, আঞ্চলিক সংযোগ ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের মতো প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে নজর দিতে বিমসটেক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে নিয়মিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হলে তাতে কাজে গতি আসবে।

সড়কপথে যোগাযোগ বাড়াতে বিমসটেক ওয়ার্কিং গ্রুপ ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংযোগ বাড়াতে আমরা এখন উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি করার কথা বিবেচনা করতে পারি। এখন আমরা চাই, উন্নততর উপ-আঞ্চলিক গ্রিড সংযোগ এবং জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি ও তার বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর নেতারা মধ্যাহ্ন ভোজের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) গঠিত হয়।

শনিবার গোয়ায় শুরু হওয়া অষ্টম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এ জোটের সদস্য দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল টেমের, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আর বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদল্লাহ ইয়ামিন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি আউটরিচ সামিটে অংশ নিচ্ছেন।