মেইন ম্যেনু

ব্রিগ্রেডিয়ার নাছির উদ্দীনের তত্বাবধানে পাল্টে যাচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিত্র

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। একথাটি আজ যেনো কথার কথা, ভিত্তিহীন। কিন্তু এ কথার ভিত্তি এখনও কোথাও না কোথাও আছে। তাই জগতে কিছু মানুষ থেকেই যায়। যারা খুব প্রচার বিমূখ। যারা চান নিরবে-নির্ভৃতে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে। যারা বিনিময়ে চান না কিছু, শত বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে অবিচল গতিতে এগিয়ে চলেন নিজ মহিমায়। তাদের একজন ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার নাছির উদ্দীন আহমদ।

তিনি অল্পদিনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিছু শুভবুদ্ধি সম্পন্ন চিকিৎসক, কর্মকতা, কর্মচারীদের সহযোগিতা নিয়ে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন হাসপাতালের সার্বিক কর্মকান্ডের। যেখানে হাসপাতালের প্রধান সমস্যা ছিলো দালালদের দেৌড়াত্ম , হাসপাতালে বহু বছর ধরে নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছিলো দালাল, আয়া ও কতিপয় অসৎ কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।সিন্ডিকেট এর দেৌড়াত্ম কমিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি দালালদের যত্রতত্র বিচরণ চিকিৎসা প্রদানে অকেজো যন্ত্রপাতি সারিয়ে তুলেছেন। কিনেছেন নতুন যন্ত্রপাতি। দ্রুত সঠিক রোগ নিরূপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। হৃদরোগীদের জন্য ক্যাথল্যাব স্থাপনের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩ বছর যাবত অকেজো ক্যানসার এর জন্য থেরাপী মেশিনটি ( কোবাল্ট ৬০) সারানোর জন্য উপর মহলের দৃষ্টি আকষর্ণ করেছেন।

দীর্ঘদিনের বিদ্যামান অস্বাস্থ্যকর-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাল্টে দিয়ে ঝকঝকে তকতকে করে তুলেছেন হাসপাতালের চারিপাশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য চালু করেছেন বাধ্যতামুলক আইডি কার্ড পরিধান ও ড্রেসকোড। উন্নত হয়েছে রোগীর খাদ্যমান। পূর্বে যেসব খাতে অনেক দূনীর্তি ছিলো, অনিয়ম ছিলো, বিভিন্ন খাতে ব্যায়ভার বেশী ছিলো, তিনি দক্ষ হাতে পরিকল্পিতভাবে এসব দমন করেছেন। কমিয়ে এনেছেন বিভিন্ন কর্মখাতের সামগ্রিক ব্যায়। সরকার প্রদত্ত শতভাগ ওষধ বিনামূল্যে যথাযতভাবে প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালে ঢুকলেই এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের স্মারক চোখে পড়বে।

এভাবেই প্রতিদিন লাগাতার উন্নয়ন কর্মকান্ড চলছে। এরপরও হাসপাতালে কিছু সমস্যা রয়েই যাচ্ছে যেগুলো সারানোর জন্য তিনি আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকের মতে তিনি একজন চেঞ্জমেকার, উন্নয়নের রূপকার। দ্রুত হাসপাতালের উন্নয়ন ও সার্বিক সেবারমান বৃদ্ধির জন্য অনেক সুশীল, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাকে ধন্যবাদ জানাতে হাসপাতালে তার সাথে দেখা করছেন। মতবিনিময় করছেন।

বিগত দিনে হাসপাতালটির পরিবেশ, সেবাদানের অবকাঠামো এতটাই পিছিয়ে পড়েছিলো যে, ২০০০ সাল থেকে, ২০১৫ অবধি সেবাদানে মানসম্মত হাসপাতাল এর তালিকায় এই হাসপাতালটি দেশের ১০ নম্বর অবস্থানেও ছিলো না। মাত্র ৭ মাসে পরিচালক মহোদয় হাসপাতলটিকে ঢেলে সাজিয়েছেন নতুনরূপে। তিনি প্রতিদিন রুটিন মাফিক বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন, রোগীদের খোজ-খবর নেন। কোন অবহেলা, অসংগতি, অনিয়ম দেখলে তার বিরুদ্ধে অ্যাকসন নিয়ে থাকেন।

হাসপাতালটি এখন সম্পূন্ন দালালমুক্ত। নির্দিষ্ট সময়ছাড়া রিপ্রেজেনটিটিভগণ হাসপাতালে ঢুকতে পারেন না। কঠোর নজরদারীর জন্য হাসপাতালের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাকী স্থানে ক্যামেরা বসানোর জন্য কাজ চলছে।

হাসপাতালে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার্বক্ষণিক সেবা প্রধানের লক্ষ্যে হাসপাতালটিকে ডিজটালাইজ করতে নিয়েছেন নতুন পদক্ষেপ । তিনি খুব দ্রুত চালু করতে চান, ই-হেলথ, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা ও অটোমেশন পদ্ধতি। অল্পদিনে আমূল পরিবর্তনের জন্য সেবা প্রদানের দিক দিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালকে এখন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল বলা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজকের এই অগ্রগতি আমার একার নয়, সবকিছুই ময়মনসিংহবাসীর সহযোগিতার ফল। হাসপাতাল উন্নয়নে, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বরাবরের মত অসহযোগিতা করে চলছেন, তবে অনেক ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী হাসপাতালটির সেবারমান বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছেন।

বিশেষ করে তিনি স্থানীয় সকল সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক সাংবাদিক কষ্ট করে প্রতিদিন হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, অসংগতি, সমস্যা সংবাদপত্রে তুলে ধরছেন। তাই আমার জন্য সহজ হচ্ছে এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। তাদের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

তার শেষ কথা, হাসপাতালটির উন্নয়নে বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ, জেলাপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পেৌর প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষ মানুষ যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সকলের সার্বিক প্রচেষ্ঠায় এই হাসপাতালকে দেশের শ্রেষ্ঠ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।